জাতিসংঘ শান্তি মিশনে দেবীদ্বারের -এলাহাবাদ

 

জাতিসংঘ শান্তি মিশনে দেবীদ্বারের -এলাহাবাদ

রিপোর্টারের নাম:
  •  আপডেট টাইম Thursday, June 4, 2026 
  •  
  •  20 দেখা হয়েছে

মমিনুল ইসলাম মোল্লা।।
কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ, যেখানে বহু মানুষ দেশসেবা ও সামরিক পেশার মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখে আসছেন। এই এলাকার বহু কৃতি সন্তান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে এবং ১৯৮৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শুরু করে। এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত।
এই বৈশ্বিক শান্তির অভিযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলাহাবাদ ইউনিয়নের নামও। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, এই এলাকার বহু ব্যক্তি সেনাবাহিনীতে কর্মরত থেকে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী মরহুম আজগর আলী চেয়ারম্যানকে এলাহাবাদের প্রথম ব্রিটিশ সেনাসদস্য হিসেবে স্মরণ করা হয়। এছাড়া আবদুস সালাম ভূঁইয়া, সার্জেন্ট মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সার্জেন্ট তমিজ উদ্দিন, আবদুর রাজ্জাক, আবুল কালাম আজাদ, আলমগীর হোসেন এবং সার্জেন্ট (অব.) সফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করে এলাহাবাদের নাম গৌরবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্যরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, মানবাধিকার রক্ষা এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই কাজ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা ইতিহাসে এলাহাবাদের অবদান স্থানীয়ভাবে একটি গর্বের অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় ৬০ জনের বেশি ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বা আছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়, যাদের মধ্যে অনেকে আন্তর্জাতিক মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন।
এই গৌরবময় ইতিহাস এলাহাবাদকে শুধু একটি গ্রামের পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধের একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
শান্তির এই দীর্ঘ যাত্রায় এলাহাবাদের সন্তানদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাঁদের এই অংশগ্রহণ স্থানীয় ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ও গর্বের অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
লেখক: মমিনুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক, উইকি সংকলক ও গুগল কন্ট্রিবিউটর, কুমিল্লা।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.