কেমন স্থানীয় সরকার চাই? মমিনুল ইসলাম মোল্লা

কেমন স্থানীয় সরকার চাই?
মমিনুল ইসলাম মোল্লা


সম্মানিত পাঠক, আমরা অবশ্যই ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার’ চাই এবং তার জন্য ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’র-ই অবিলম্বে বাস্তবায়ন চাই। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা খুবই অপরিসীম। এটির মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদ আহরণ এবং এর যথাযথ ব্যবহার করে স্থানীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নে বিপুল অবদান রাখা সম্ভব। সেজন্য স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা খুবই আবশ্যক। শাসকদের উদ্দেশ্যগত মিল থাকার কারণে ব্রিটিশ শাসনামলের আগ থেকে আজ অবধি আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের নামে এবং একে শক্তিশালীকরণের নামে এক ধরনের স্থানীয় এজেন্ট/শাখা ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও এটি  স্বশাসিত, স্বাবলম্বি, গণতন্ত্রের ভিত ও গতিশীল অর্থাৎ গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার হিসেবে স্থাপন, বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিকতা লাভ করেনি। ফলে এর দ্বারা তেমন কোনো সুফল স্থানীয় জনসাধারণ ভোগ করতে পারেনি, পারছেনা। 
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় সরকার হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার যন্ত্র বিশেষ, একটি রাষ্ট্রের প্রাণস্বরূপ। রাষ্ট্রকে জীবদেহের সাথে তুলনা করলে সরকারই হচ্ছে এর প্রধান নিয়ামক। আর আমরা যদি একে একটি চলমান ট্রেনের সাথে তুলনা করি তাহলে এর ইঞ্জিন হচ্ছে সরকার। ইঞ্জিন ছাড়া বগির কোন মূল্য নেই। তাই সরকারের মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম বলে এ সরকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রত্যেক নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। ্সাধারণত “সরকার” বলতে আমরা শুধু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে-ই বুঝি, যেটি ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপর ব্যাপৃত। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন এসে যায়, এক্ষেত্রে প্রতিটি স্থানীয় ইউনিটে স্থানীয় সরকারের অস্তিত্বের স্বীকৃতি কোথায়? স্থানীয় সরকারও একটি সরকার। শুধু সরকার বললে আমরা কোন্ সরকারের কথা বলি- কেন্দ্রীয় সরকার, না স্থানীয় সরকার? তাই স্থানীয় সরকারের অস্তিত্বের স্বীকৃতি কথায় ও আইনে দিতে হলে “সরকার” বলতে বুঝতে হবে-কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার। প্রথমটি গোটা বাংলাদেশে ব্যাপৃত; অন্যটি যেকোনো স্থানীয় ইউনিটে ব্যাপৃত, এবং আমরা মনে করি বাংলাদেশে এই দুই প্রকারের (কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়) সরকার-ই থাকা প্রয়োজন, যদিও কেউ কেউ হঠাৎ করে সরকারের আরও একটি স্তর বাড়ানোর অপ্রয়োজনীয় কসরত করে-ই চলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মহৎ আন্দোলনকে বিভ্রাšত করা এবং জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে স্থানীয় এজেন্ট প্রথা বজায় রাখার তাদের চিরাচরিত প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া; তাই তাদের এই ক্ষতিকর প্রয়াস সম্পর্কে জনগণকে অবশ্যই সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। প্রসঙ্গত, সেসঙ্গে গোটাদেশের সরকারের বিষয়ে আরেকটি বিষয় এসে যায়, “কেন্দ্রীয় সরকার” শব্দগুচ্ছ আমাদের সর্বোচ্চ ও প্রচলিত আইনের কোথাও আছে কি? গবেষণায় বলে, নেই। তাই আমাদের সর্বোচ্চ ও প্রচলিত আইনের যেসব জায়গায় শুধু “সরকার” শব্দটি রয়েছে, সেসব জায়গায় “কেন্দ্রীয় সরকার” শব্দদ্বয় প্রতিস্থাপন করতে হবে বইকি। 
গণতন্ত্র, সংবিধান, প্রচলিত আইন, সরকার-এগুলো আমাদের অতি পরিচিত শব্দ। আমরা সবসময় সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়িামে এগুলোর কথা শুনি। রেডিও, টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায়ও এগুলোর উপর মাঝেমধ্যে আলোকপাত করা হয়। তারপরও গ্রাম কিংবা শহরের কিছু  লোককে যদি জিজ্ঞেস করা হয়-বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান কে? এ প্রশ্নের জবাবে অধিকাংশ লোক বলবে শেখ হাসিনা। এটি তাদের দোষ নয়। কারণ গণতন্ত্র, সংবিধান, প্রচলিত আইন ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে অনার্স, মাস্টার্স পড়েন, তাদেরকে বাংলাদেশের পুরো সংবিধান পড়ানো হয়না। অথচ বৃটেন আর আমেরিকার শাসনতন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ানো হয়। অনার্সে আলাদা বিষয় হিসেবেও সংবিধানের উপর ১০০ নম্বর রাখা যেত। কিন্তু তা না করে শুধুমাত্র ১টি অধ্যায়ে বাংলাদেশ সংবিধানের বৈশিষ্টাবলী বর্ণিত হয়েছে। সেজন্য দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত অধিকাংশ লোকেরই সরকার, গণতন্ত্র, সংবিধান, প্রচলিত আইন-এগুলো সম্পর্কে ধারণা খুবই কম; ধারণা বাড়ানোর সচেতন প্রচেষ্টা আছে কি? না থাকার কারণ হয়তো জনসাধারণ এসব সম্পর্কে সচেতন হয়ে গেলে রাষ্ট্র যন্ত্রের পরিচালকদের সমস্যাই বটে! তা-ই নয় কি? কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব বিষয়ে জানা থাকা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে এবং তা জানানোর সচেতন প্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়া সর্বস্তরের সরকারের অত্যাবশ্যকীয় কাজের মধ্যেই পড়ে বইকি।  
এবার আসা যাক স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে-কেন্দ্রীয় সরকার যদি গোটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পরিচালক হয়; তাহলে স্থানীয় সরকার প্রতিটি স্থানীয় ইউনিটের পরিচালক। কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রেখে স্থানীয় সরকার স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা। কিন্তু স্থানীয় সরকার স্বশাসিত, স্বাবলম্বী, গণতন্ত্রের ভিত অর্থাৎ ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার’ হিসেবে গড়ে ওঠে নাই বলে স্থানীয় সরকার ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়ে আছে। কেউ কেউ আরেকটু গলা বাড়িয়ে বলেন, ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।
্এমতাবস্থায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী জেলা ভিত্তিক! জাতীয় বাজেটের কথা বলছেন। এ কি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটা মেরে দেয়ার জন্য নয় কি? এ তো মূলত স্থানীয় সরকারের কাজ; স্ব স্ব স্থানীয় সরকার স্ব স্ব স্থানীয় ইউনিটের নিজস্ব বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে অর্থাৎ বিভাগীয় সরকার বিভাগীয় বাজেট, জেলা সরকার জেলা বাজেট, নগর সরকার নগর বাজেট, উপজেলা সরকার উপজেলা বাজেট এবং ইউনিয়ন সরকার ইউনিয়ন বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থমন্ত্রী হয়া সত্ত্বেও তিনি স্থানীয় সরকারের এই মৌলিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে স্থানীয় সরকারের যে নড়বড়ে সেকেলে অস্তিত্ব রয়েছে, তা-ও কি বিলোপ করে দিতে চান? বিষয়টি গভীরভাবে গবেষকদের ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয়।
ব্রিটিশ শাসনামলের আগ থেকে এ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের কাঠামো বহুবার বদল করা হয়েছে। এটা যেন একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। প্রতিবারই পরিবর্তনের সময় বলা হয়, জনগণের কল্যাণার্থে স্থানীয় সরকারকে ‘যুগোপযোগী’ ও ‘শক্তিশালী’ করতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাস্তবত, কখনও গণতন্ত্রের ভিত, স্বশাসিত, স্বাবলম্বী, গতিশীল অর্থাৎ গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গৃহীত হয়নি। তাই, আর বিলম্ব নয়, আর একটুও সময় ক্ষেপণ নয়। এখনই ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ অনুযায়ী নিম্ন লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী জাতীয় কর্তব্য বলে প্রতীয়মান হয়; এই পদক্ষেপগুলো হল:
দুই প্রকারের সরকার ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে এদের অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট করতে হবে। ২০২০ ও ২০৫০ সাল নগাদ পরিবর্তনশীল বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ টি গ্রহণ ও তা একসঙ্গে বাস্তবায়ন ও কার্যকর  করতে হবে এবং তার সুফল ও সীমাবদ্ধতা একসঙ্গে পর্যবেক্ষণে নিয়ে প্রয়োজনে এডজাস্টমেন্ট করতে হবে। তিন প্রকারের স্থানীয় সরকার তথা গ্রামীণ স্থানীয় সরকার, নগরীয় স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ-নগরীয় স্থানীয় সরকার স্থাপন করতে হবে। প্রতিটি স্থানীয় স্তরে অর্থাৎ বিভাগে বিভাগীয় সরকার, নগরে নগর সরকার, জেলায় জেলা সরকার, উপজেলায় উপজেলা সরকার ও ইউনিয়নে ইউনিয়ন সরকার স্থাপন করতে হবে। বিভাগ অথবা জেলাকে স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট ঘোষণা করতে হবে; জেলাকে সর্বোচ্চ ইউনিট করা হলে বিভাগকে বিলুপ্ত করতে হবে, আর বিভাগকে সর্বোচ্চ ইউনিট করলে জেলাকে পুরোপুরি গ্রামীণ ইউনিটে রূপাšতরিত করতে হবে। স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিটকে অবশ্যই গ্রামীণ-নগরীয় স্থানীয় ইউনিট ও সরকার হিসেবে স্থাপন করতে হবে। ইউনিয়ন ও নগর উভয় ইউনিটকে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। বটম-আপ পদ্ধতি অনুসরণ করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। ক্ষমতার বিভাজন নীতিমতে স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ ও স্থানীয় আদালত প্রতিষ্ঠা করতে হবে; স্থানীয় সংসদ অর্থাৎ স্থানীয় বিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভাগীয় সংসদ, জেলা সংসদ, নগর সংসদ, উপজেলা সংসদ ও ইউনিয়ন সংসদ স্থাপন করতে হবে; নগর আদালত ও ইউনিয়ন আদালত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্থানীয় ন্যায়পাল ও নির্বাচনী বোর্ড স্থাপন করতে হবে। গণস্বপ্ন ২০২০ অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের পঁচিশটি ক্ষেত্রে গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করার স্বার্থে প্রতিটি স্থানীয় ইউনিটে গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণ এর মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া চালু ও তা ক্রমাগতভাবে জোরদার করতে হবে। প্রতিটি স্থানীয় ইউনিটে মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো) এর আলোকে প্রণীত ১১ দফা সুপারিশ অনুযায়ী ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নারীর গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন ও শহরের প্রত্যেক ওয়ার্ড হতে একজন মহিলা সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য নির্বাচিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি শহরে একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র ও একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে হবে; এমপো অনুযায়ী উপজেলায় নির্বাচিত একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। স্থানীয় সরকারের মেয়াদকাল ৪ বছর করতে হবে। যথারীতি যথাসময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করে ক্ষমতা হস্তাšতর ও গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দিতে হবে। আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে শতভাগ সিস্টেম ও সেবাধর্মী কস্ট এবং বেশীরভাগ উন্নয়নমূলক কস্ট নিজস্ব আয় থেকে বহন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশী স্থানীয় ইউনিট ও স্তর থাকায় ২০২০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ পরিবর্তমান বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে স্থানীয় ইউনিটের সংখ্যা ও স্তর যথাসম্ভব পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নগর সরকারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত নগর এবং ইউনিয়ন সরকারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত ইউনিয়ন গঠন করার উদ্যোগ এখনই গ্রহণ ও কার্যকর করতে হবে। ইউনিয়ন কেন্দ্রীক একটি কার্যকর ইউনিয়ন সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ইউনিয়নের মধ্যে ‘ওয়ার্ড সভা’ নামে আরো প্রায় ৪২ হাজার ৫ শত অপ্রয়োজনীয় ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাতিল করতে হবে। পৌরসভা ও নগর কর্পোরেশন উভয়ই নগরীয ইউনিট বিধায় দুই ধরনের নাম, দুই ধরনের পদ্ধতি, দুই ধরনের আইন খুবই অপ্রয়োজনীয় বলে তা বাতিল করে দেশের ৩১৫টি নগরে (৩০৯টি পৌরসভা ও ৬টি নগর কর্পোরেশন) এক ধরনের ৩১৫টি নগর সরকার স্থাপন করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ‘নগর মানে কৃষি নয়’ এই ধারণার বিপরীতে ‘কৃষিকে নিয়েই নগর’ এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি নগরীয় কৃষি ও গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থাকে এক সঙ্গে সম গুরুত্বে লালনপালন করার ওপর সবিশেষ জোর দিতে হবে। 
এক কথায় সকল স্থানীয় স্তরে অর্থাৎ বিভাগে, নগরে, জেলায়, উপজেলায় ও ইউনিয়নে এমপো ও তার আলোকে প্রণীত ১১ দফা অনুযায়ী ‘গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন’ নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষের সমমর্যাদায় ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার হবে স্বশাসিত, স্বাবলম্বী, গণতন্ত্রের ভিত ও গতিশীল অর্থাৎ গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার, যা স্থানীয় সরকার গবেষক ও সিডিএলজি’র নির্বাহী পরিচালক আবু তালেব প্রণীত ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তবেই স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার করে স্থানীয় জনসাধারণের প্রকৃত কল্যাণ করা সম্ভবপর হবে। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, স্থানীয় ইউনিট ভিত্তিক ইউনিট ও ইউনিটবাসীর উন্নয়নই সার্বিক জাতীয় উন্নয়নের নামান্তর।
মমিনুল ইসলাম মোল্লা: প্রভাষক, সাংবাদিক, ফিচার লেখক  ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের জন্য ক্যাম্পেনার, জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন, কুমিল্লা জেলা।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.