শ্রদ্ধায় স্মরণঃ বীর যোদ্ধা ক্যাপ্টেন সুজাত আলী

শ্রদ্ধায় স্মরণঃ বীর যোদ্ধা ক্যাপ্টেন সুজাত আলী

মমিনুল ইসলাম মোল্লা
বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সুজাত আলী ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল তিনি আমেরিকার ডালসের রিচার্ডসসন রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টার ইন্তেকাল করেন।  তখন তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তাঁর প্রিয় প্রতিষ্ঠান দোবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসে তাকে সমাহিত করা হয়। মরহুম সুজাত আলী ১৯২৬ সালের ২৫ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বারের গৌড়সার গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ¯œাতক সম্মান ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি তৎকালীন কিং কমিশন ভারতীয় বিমানবাহিনীর পদাতিক পদাতিক ডিভিশনে যোগদান করেন। তিনি তার বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।  তিনি পাকিস্তান শাসনামলে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬৫-৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে ১৩ বার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩৭ থেকে ৪১ সালের মধ্যে কবিতা আবৃত্তিতে ১৩টি পদক লাভ করেন। 
১৯৬৮ সালে তিনি দেবিদ্বারের প্রাণকেন্দ্রে দেবিদ্বার সুজাত আলী কলেজ স্থাপন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি দেবিদ্বার এতিম খানা যা বর্তমানে শিশুসদন নামে পরিচিত তা স্থাপন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি নিজ গ্রাম দেবিদ্বারের গৌড়সারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সেজন্য তিনি যুদ্ধপদক ও পাকিস্তান পদক লাভ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি ভারতের পালাটানা ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন। এসময় তার নেতৃত্বে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি কসবার রণক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন। এসময় তিনি আহত আবস্থায়ও বীরবিক্রমে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যান।জনাব সুজাত অঅলী ও কসবার মনতলার যুদ্ধ সম্পর্কে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা: এম. এস. এ. মনসুর আহমেদ (গ্রাম : চরভাগল,ইউনিয়ন : গোবিন্দপুর (দক্ষিণ),থানা : ফরিদগঞ্জ,জেলা : চাঁদপুর) বলেন-মনতলাতে যাওয়ার পরে অক্টোবর মাসের ২২ তারিখে আমাদের একটা প্রোগ্রাম ছিল যে কসবা দখল করবো। 
২২শে অক্টোবর সকালে আমরা ভোর সাড়ে চারটার দিকে রওয়ানা দিলাম। আমি,কর্নেল খালেদ মোশাররফ,ক্যাপ্টেন সুজাত আলী-সুজাত আলী সাহেব। হলেন আওয়ামী লীগের এম. পি (কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে ১৯৭০ সালে নির্বাচিত) এবং মেজর আইনউদ্দিন সাহেব-এই চারজন উনার জিপে করে রওয়ানা দিলাম।  আমরা মনতলা থেকে এসে পৌছলাম এটা নির্দেশ ছিল যে খালেদ মোশাররফ সাহেব এসে পৌছবেন এবং পৌছার পরে আক্রমণটা অর্থাৎ আমাদের এদিক থেকে শেলিংটা শুরু হবে। আমরা একটু দেরি করে ফেলেছি। আমরা জিপ থেকে নামার পূর্বেই আমাদের পক্ষ থেকে শেলিং শুরু হয়ে গেছেআমরা ওখানে অপেক্ষা করলাম। কর্নেল খালেম মোশাররফ,ক্যাপ্টেন সুজাত আলী সাহেব এবং আইনউদ্দীন সাহেব উনারা ঐ পাহাড়ের উপরে উঠে গেলেন বি. এস. এফ. ক্যাম্পে। বি. এস. এফ ক্যাম্পের উপরে যে বাংকার সেই বাংকার থেকে উনারা নির্দেশ দিচ্ছেন। আমরা এইদিকে অপেক্ষা করছি। প্রথমতো একচেটিয়া ভারতের দিক থেকে কসবার উপরে ফায়ার হয়।খালেদ মোশাররফ কোন এরিয়ার ভেতরে উনডেড হলেন পাশাপশি ক্যাপ্টেন সুজাত আলী আহত হন। মরহুম সুজাত আলী ১৯৪৮-৬৯ পর্যন্ত পাকিস্তান মুসলিম লীগের সদস্য, ৭২-৭৩ সালে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ৭৬-৮১ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য বা এএমএনএ নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মরহুম সুজাত আলীকে তার মৃত্যুদিবসে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। 



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.