আবু হুরাইরাহ
আবদুর রহমান ইবনে সখর আদ-দৌসি[১] বা আবু হুরায়রা[২](আরবি : أبىْ هريْرة رضى الله عنْه) নবী মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন সাহাবা ও সেবক ছিলেন যার প্রকৃত নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর অথবা উমায়র ইবনে আমির।[৩] তিনি আসহাবুস সুফফার একজন সদস্য ছিলেন এবং একনিষ্ঠ জ্ঞান পিপাসু ছিলেন। তিনি তিন বছর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং বহুসংখ্যক হাদিস আত্মস্থ করেন এবং বর্ণনা করেন। হিসাব অনুযায়ী, ৫,৩৭৫ টি হাদিস তার কাছ থেকে লিপিবদ্ধ হয়েছে। বলা হত যে, উর্বর মস্তিষ্ক ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। তার কাছ থেকে আটশত তাবেঈ হাদিস শিক্ষা লাভ করেছিলেন।
নাম পরিবর্তনের ইতিহাস
প্রাথমিক জীবন
ইসলাম গ্রহণ
আবু হুরাইরা ইসলামে দীক্ষিত হন প্রখ্যাত সাহাবী তুফায়িল ইবন আমর আদ-দাওসীর হাতে। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি স্বীয় দাওস গোত্রের সাথেই অবস্থান করতে থাকেন। ষষ্ঠ হিজরী সনে তার গোত্রের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে তিনি মদীনায় এসে মুহাম্মাদের (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তবে আমর ইবনুর গালাস বলেন, তিনি বছর ৭ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন।
মদিনা আসার পর তিনি দিন রাত ২৪ ঘন্টা মুহাম্মাদের সাহচার্যে থাকতেন, এবং মুহাম্মাদের জীবদ্দশায়, তখনো আবু হুরাইরাহ বিবাহ করেননি। বাড়িতে শুধু তার বৃদ্ধা মা ছিলো। এই বৃদ্ধা মুহাম্মাদের দোয়ার কারণে ইসলাম কবুল করেন।
হাদিস বর্ণনাকারী হিসাবে
দারিদ্র্যতায় জর্জরিত
জ্ঞান অর্জনের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগের কারণে ও সবসময় মুহাম্মাদের মজলিসে উপস্থিত ব্যাপারে অত্যধিক গুরুত্ব প্রদানের কারণে জীবনে তিনি এত ক্ষুধা ও দারিদ্র সহ্য করেছেন যে তার সমকালীনদের মধ্যে কেউ তা করেননি। তিনি ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত দারিদ্র্য ছিলেন, এই জন্য মসজিদে নববী নামাজ পড়ার সময় তিনি সবার সাথে কোন কারণ ব্যতীতই কথা বলার চেষ্টা করতেন শুধু এই কারণে, তারা হয়তো তার ক্ষুধার্থ অবস্থা বুঝে তাকে খাওয়ার জন্য ডাকবে। আবার তিনি লোকজনের চলার পথেও দাড়িয়ে থাকতো, কেও যদি তাকে ডেকে নিয়ে খেতে দেয়।
অল্প কালের মধ্যেই মুসলমানদের হাতে ধন ও ঐশ্বর্য আসে। চতুর্দিক থেকে গনিমাতের মাল মুসলমানদের হাতে আসতে থাকে। আবু হুরাইরা অর্থ, বাড়ী, ভূ-সম্পত্তি, স্ত্রী ও সন্তানাদি- সবকিছুর অধিকারী হন। তবে তিনি সবসময় বলতেন, আমি ইয়াতীম অবস্থায় বড় হয়েছি, রিক্ত হস্তে হিজরাত করেছি।
মৃত্যুবরণ
অন্তিম রোগ শয্যায় মারওয়ান ইবনুল হিকাম তাকে দেখতে এসেছিলেন। মারওয়ান তার সাথে সাক্ষাৎ এর পরপরই তিনি শ্বেস নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। ঐতিহাসিক ওয়াকিদী বলেন, ওয়ালিদ বিন উকবা’ আসরের নামাযের পর তার জানাযার নামাযের ইমামতি করেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবু সাঈদ খুদরী প্রমুখ সাহাবী তার জানাযায় উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ালিদ ইবনে উকবা তার মৃত্যুর খবর হযরত মুয়াবিয়ারকে অবহিত করলে তিনি তাঁকে লিখেন, তার উত্তরাধিকারীদের খুজে বের করে দশ হাজার দিরহাম দাও এবং তাঁর প্রতিবেশীদের সাথে সদাচরণ কর। কারণ, উসমানের গৃহবন্দী অবস্থায় তিনি তাঁকে সাহায্য করেছিলেন।
আল্লামা ইবনে হাজার আসকিলানী ‘আল ইসাবা’ গ্রন্থে আবু সুলাইমানের সুত্রে উল্লেখ করেছেন, আবু হুরাইরা ৭৮ বছর জীবন লাভ করেছিলেন। ওয়াকিদীর মতে তাঁর মৃত্যুসন ৫৯ হিজরী, তবে ইমাম বুখারীর মতে তার মৃত্যুসন হিজরী ৫৭। মদীনার অদূরে 'কাসবা' নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।