সাংবাদিকতায় মমিন মোল্লার
২৫ বছর
*আত্মজীবনী: মমিনুল ইসলাম মোল্লা*
মামিনুল ইসলাম মোল্লা: সাংবাদিকতা ও লেখালেখির এক নিবেদিত প্রাণ
মমিনুল ইসলাম মোল্লা: চিন্তাশীল কলমের এক সৃজনশীল পথিক//
শিক্ষা চিন্তা ও কলমে -মমিনুল এক অনবদ্য নাম
ছন্দে ছন্দে কোরআন শিক্ষা মমিনুল ইসলাম মোল্লার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
সহিহ আকিদার প্রচারে নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা: মমিনুল ইসলাম মোল্লা
মমিনুল ইসলাম মোল্লা: শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ডিজিটাল প্রজন্মের অনুপ্রেরণা: অনলাইন এক্টিভিস্ট মমিনুল ইসলাম মোল্লা
; ২৫ বছর ধওে সাংবাদিকতার
সাথে জড়িত রয়েছেন মমিনুল ইসলাম মোল্লা। এসময়
তিনি শতাধিক পত্রিকায়
লিখেছেন। প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন নিউজপেপার ও
রেডিও সাংবাদিকতায় সময়
দিচ্ছেন।তথ্য মন্ত্রনালয়ের হিসেব মতে, দেশে
অনলাইন পত্রিকার সংখ্যা
১৫৩টি। এর মধ্যে ১০১টি পত্রিকার সাথে জড়িত
রয়েছেন চারন সাংবাদিক,
প্রভাষক, ফিচার লেখকও কলামিস্ট কুমিল্লার
দেবিদ্বারের ( এলাহাবাদের
) কৃতি সন্তান মমিনুল ইসলাম মোলাø। তিনি মনে
করেন একই ধরণের পত্রিকা
সকল শ্রেনীর পাঠককে আকৃষ্ট করেনা। ধর্ম, রাজনীতি
ও আদর্শের কারণে পাঠকদের
রুচিগত ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। তাই কোন একটি
পত্রিকার সাথে যোগাযোগ
রেখে সকল পাঠকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই
তিনি স্থানীয়, জাতীয়,
দেশের ভেতরের, বাইরের বিভিন্ন বাংলা অনলাইন
পত্রিকায় লিখছেন। লিখতে
লিখতে একদিন খেয়াল করলেন ১০০ টির বেশি পত্রিকা
হয়ে গেছে, এ যেন অন্যরকম
“সেঞ্চুরী” ।
। নিন্মে তার সাথে আলাপচারিতার
বিষয়টি প্রশ্নোত্তর আকাওে ছাপানো হলো।
১. শিক্ষা সংক্রান্ত কোন
ঘটনা থাকলে বলুন।
৬ষ্ঠ শেণিতে পড়াকালীন সময়ে ১ম সাময়িক পরীক্ষায় ইংরেজী ২য় পত্রে ফেল
করি। তখন এ বিষয়টি পড়াতেন
প্রধান শিক্ষক জনাব আঃ মতিন। তিনি ফেল করা
সবাইকে ইচ্ছেমত শাস্তি
দিলেন। আমাকে বল্লেন তোমাদের বাড়ির পাশের দু
ভাইকে চেন? তাদের মধ্যে
বড় ভাই বড় অফিসার ছোট ভাই মাঠে কাজ করে । তোমার
ভাইয়েরা সবাই আমার ছাত্র
ছিল ওরা সবাই ভাল ছিল , তুমি ভালভাবে লেখা পড়া
না করলে তোমার অবস্থা ও
সেই দুভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাইয়ের মত হবে। ওরা একই
মায়ের পেটের ভাই অথচ লেখাপড়ার
কারণে তাদের এ অবস্থা। স্যারের কথাটি
আমাকে ভাবিয়ে তোলে। ত
ারপর জীবনের কোন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হইনি।
২. যে দিন খুব কেঁদেছিলেন
ঃ ১৯৯১ সালে ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃষি বিজ্ঞান
ব্যবহারিক পরীক্ষায় অজ্ঞতাবশত
পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে না পেরে প্রচুর
কেঁদেছিলাম। পরে শুনলাম
অন্য ব্যাচের সাথে পরীক্ষা দেয়া যাবে, তখন
কিছুটা রক্ষা পেলাম।
৩. আপনার জীবনের একটি আনন্দদায়ক
আনন্দদায়ক ঘটনার কথা বলুন ।
আমার স্ত্রী ২২ দিন হাসপাতালে
থাকার পর ২০০৭ সালের ১০ জুলাই মঙ্গলবার
ঢাকার হলিফ্যামিলি হাসপাতালে
আমার বড় ছেলে তাজিম উল মুমিন জনম নেয়।
৪. পত্রিকার সাহিত্য পাতায়
কখনও কাজ করেছেন ?
হ্যাঁ। আমি যখন চাঁচপুরের
শাহতলী কামিল মাদ্রাসয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রভাষক
হিসেবে চাকুরি করি তখন
সেখানকার প্রধান দৈানক “চাঁদপুর প্রবাহ” পত্রিকায়
সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব
পালন করি। তখন সাহিত্য পাতাটি আমি দেখতাম।
৫. নিজে কিছু লিখতেন কি
না ?
আমি যখন ৮ম শ্রেণীতে পড়ি
তখন ২৬ শে মার্চ উপলক্ষে স্বরচিত কবিতা
আবৃত্তির একটি আইটেম ছিল
,তাতে অংশগ্রহন করতে গিয়ে প্রথম কবিতা লিখা ।
একসময় দেখলাম আমার কবিতার
সংখ্যা ৩০০ হয়ে গেছে। তখন কুমিল্লার ও ঢাকার
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়
এগুলো পাীঠয়ে দেই। বেশ কয়েকটি কবিতা তখন ছাপা
হয়েছিল। এছাড়া রেডিও
বাংলাদেশ খুলনা কেন্দ্রে কবিতার উপর একটি অনুষ্ঠান
ছিল তাতে কবিত্ পাঠাতাম।আমি
জাতীয় কবিতা পরিষদেও কুমিল্লা শাখার সাথে
জড়িত। এছাড়া বিশিস্ট লেখক মোতাহের হোসেন মাহবুব পরিচালিত
বিনয়
সাহিত্য সংসদের সদস্য।
৬. গল্প/ উপন্যাস কিছু
লিখেছেন কী ?
আমেনা ও তার ৩ সন্তান নামে
একটি গল্প বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। এছাড়া আমার
৫টি উপন্যাসের পান্ডুলিপি
ছিল। ঢাকার সেবা প্রকাশনী একটি উপন্যাস ছাপানোর
জন্য চুক্তি করেছিল কিন্তু হঠাৎ করে কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা
সেটি আর ছাপেনি।
৭. প্রথম প্রকাশিত লেখার
কথা বলুন।
ফিচার-চাঁদপুরের লঞ্চ দুর্ঘটনা
নিয়ে দৈনিক বাংলা বাজার পত্রিকয় ১৯৯২
সালে প্রকাশিত। নিউজ-দেবিদ্বাওে
৩ সন্তানের জননী ইধাও,সাপাপ্তাহিক
গ্রামাঞ্চল, খুলনা।১.১.১৯৮৮কলাম-কেমনন
স্থানীয় সরকার চাই ( হলিইড বাংলা
ডট কম এ প্রকাশিত)।
৮. লিখে উপার্জণ করেন কি?
একজন ইংরেজ কবি লিখেছেন-“হি
হু রাইটস উইথাউট মানি ইজ ব্লকহেড”। আমি সেটি
বিশ্বাস করি।
৯. লিখার ক্ষেত্রে ব্যাবসায়িক
মনোভাব থাকলে দোষ কী ?“
আমরা খাওয়ার জন্য বাঁচিনা
, বাঁচার জন্য খাই। তেমনিভাবে যথোপযুক্ত
সম্মানি নেয়া দোষের কিছু
নয়।
১০. কেউ সমালোচনা করলে
সেটি কিভাবে নেন ?
গঠনমূলক সমালোচনা করলে
ভাল লাগে। অহেতুক প্রশংসার চেয়ে যুক্তিযুক্ত
সমালোচনা অনেক ভাল
১১. মানবতাবাদও সমাজ উন্নয়নে
আপনার ভুমিকা কী ?
ঘূনে ধরা সমাজকে বদলে দিতে
প্রত্যোকের ভূমিকা রাখা উচিত।
১২. আপনার লেখায় নারী
প্রসঙ্গটি কিভাবে এসেছে ?
নারীদেও অবহেলা, বঞ্চনা
ও নির্যাতনের কারণ অনুসন্থান করে তাদেরসমস্যার
সমাধানে সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ বলে আমি মনে কর্।ি
১৩. মোট লিখার (ধরণ অনুযায়ী
পৃথকভাবে ) বিবরন দিন ।
ডশক্ষা, সাহিত্য, সমাজ,
নারী, অথনীতি, স্থানীয় সরকার, থর্ম ও পর্যটন
নিয়ে প্রায় ১০০০ লিখা
আমার সংগ্রহে রয়েছে।
১৪. স্মরণীয় লিখা কোনটি
?
এই শীতেই ঘুরে দেখুন সীতাকোট
বিহার।” এ লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার দিন
“দৃষ্টান্ত ”অনলাইন পত্রিকার
পাঠক সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২৩ হাজার। সাধারণত
এ পাঠক সংখ্যা গড়ে ২/৩
হাজার।
১৫. আপনার যে কোন লেখার
নীচে লিখা তাকে ক্যাম্পেনার সিডিএলজি। একথার অর্থ কী ?
ডঃ আবু তালেব গণতান্ত্রিক
স্থানীয় সরকারের একটি নতুন রুপরেখা দিয়েছেন।
এর মাধ্যমে ইউনিয়ন , পৌরসভা,
উপজেলা, ও জেলা পরিষদে আমরা স্বশাসন চাই।
১৬. যা বলতে চেয়েছেন বলা
হয়েছে কী ?
মানুষের চাহিদা অফুরন্ত।
নির্দিষ্ট সমময়ের মধ্যে সকল কাজ করা অসম্ভব,
তারপরও চেষ্টা করছি ।
১৭. আপনি কী মনে করেন নতুনদের
সুযোগ/অনুপ্রেরণা দেয়া উচিৎ ? কেন ?
সাংবাদিকতায় নতুনদের এগিয়ে
আসা উচিৎ।
১৮.লিখার ক্ষেত্রে আপনার
গুরু বা আদর্শ কে কেন ?
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার,
দেবিদ্বার প্রতিনিধি দৈনিক প্রথম আলো,
১৯. লিখার ক্ষেত্রে আপনার
প্রধান সমস্যা বা বাধা কী ? কিভাবে সমাধানের
চেষ্টা করেন ?ন্যান্য কাজ
করে সাংবাদিকতায় প্রয়োজনীয় সময় দেয়া যায়
না। তারপরও অবসর ও ঘুম
থেকে সময় বাঁচিয়ে কাজ করি।
২০ .” আমার সাহিত্যকর্ম
আমার স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চনার ফসল” মন্তব্য
করুন ।সূর্যের আলোয় চাঁদ
আলোকিত, একজন কলেজ শিক্ষক হিসেবে আমার যতটুকু
মর্যাদা রয়েছে, তার অংশীদার
আমার স্ত্রী, একজন সাংবাদিক হিসাবে যতটুকু
খ্যাতি রয়েছে তার অংশদিারও
আমার স্ত্রী-পুত্র । সুতারং এাক বঞ্চনা মনে
করার কোন কারণ নেই।
*আত্মজীবনী: মমিনুল ইসলাম মোল্লা*
আমি মমিনুল ইসলাম মোল্লা, কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা। আমার জন্ম কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে। সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম গ্রহণ করি ১৯৭৪ সালের ১৫ জুন।আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন, তার নাম আব্দুস সাত্তার।আর মা রাফিয়া বেগম
ছিলেন গৃহিণী। আমি আমার গ্রামের ৬০ নং এলাহাবাদ পশ্চিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৮০ সালে
পড়াশোনা শুরু করি এবং পরে এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ১৯৮৯ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করি।
আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন
রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেছি এবং বর্তমানে হায়দরাবাদ, মুরাদনগর, কুমিল্লার সামছুল হক কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছি।
সাংবাদিকতা আমার জীবনের
আরেকটি অধ্যায়। আমি ১৯৯০ সালে খুলনা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক "গ্রামাঞ্চল" এর দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ কর্মীর দায়িত্ব পালন শুরু করি। বর্তমানে আমি কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আমোদ এর মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং অনলাইন পত্রিকা "বেঙ্গল টাইমস" এর স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করছি।
আমি একজন লেখকও। আমার লেখা মুরাদনগর উপজেলার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাস এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞান কোষ বাংলাদেশ" শীর্ষক বইয়ে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত "গণহত্যা জাদুঘর খুলনা" কর্তৃক বাস্তবায়িত "মহেশপুর গণহত্যা" এর উপর গবেষণা করে সনদ লাভ করি।
আমার পরিবার নিয়ে আমি খুব খুশি। আমার স্ত্রী মোসাম্মৎ তাহমিনা ইয়াসমিন বাখরনগর, মুরাদনগর, কুমিল্লার ৯৩ নং বাখরনগর পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা। আমার ছেলে তাজিম উল মুমিন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ পড়ে। আমার মেয়ের নাম তাসনিম বিনতে মুমিন, সে কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ ম শ্রেণীর ছাত্রী।
আমি আমার জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছি, কিন্তু এখনও অনেক কিছু করার বাকি আছে। আমি আমার কাজের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের সেবা করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, এবং লেখালেখির মাধ্যমে আমি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারব।
মমিনুল ইসলাম মোল্লা: জীবন ও কর্ম//
মমিনুল ইসলাম মোল্লা: জীবন ও কর্ম//
স্টাফ রিপোর্টার।।
মমিনুল ইসলাম মোল্লা একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট, সাংবাদিক এবং ঐতিহ্য বিষয়ক গবেষক। তিনি কুমিল্লার ধর্ম, শিক্ষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির একজন অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার ঐতিহাসিক এলাহাবাদ গ্রামে তাঁর জন্ম। এটি এমন একটি গ্রাম, যা ঐতিহ্য আর ইতিহাসের ধারক ও বাহক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর লেখালেখি এবং গবেষণার মূল বিষয়বস্তু হলো বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমাজ।
শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের প্রারম্ভিক অধ্যায়
মমিনুল ইসলাম মোল্লার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও তাঁর লেখালেখি থেকে বোঝা যায়, তিনি গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী। তিনি বর্তমানে মুরাদনগর উপজেলার শামসুল হক কলেজের একজন প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা ও কলামিস্ট হিসেবেও সক্রিয়। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা ছাড়িয়ে একজন সমাজ সচেতন মানুষের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
সাংবাদিকতা ও কলামিস্ট হিসেবে তাঁর অবদান
একজন সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসেবে মমিনুল ইসলাম মোল্লা মূলত ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনকে তাঁর লেখার কেন্দ্রে রেখেছেন। তাঁর কলামগুলোতে তিনি শৈশবকালীন স্মৃতি, গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোর কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে, কোরবানির ঈদ নিয়ে তাঁর লেখাগুলো পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত। এসব লেখায় তিনি তাঁর বাবা-চাচাদের সঙ্গে কাটানো কোরবানির দিনের স্মৃতিগুলোকে অত্যন্ত জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর এসব লেখা কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং গ্রামীণ সমাজের ইতিহাস, মূল্যবোধ এবং সামাজিক বন্ধনের এক প্রামাণ্য দলিল। তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ সমাজের সৌন্দর্য এবং এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন, যা আজকের প্রজন্মের কাছে প্রায় অজানা।
প্রকাশিত কর্ম ও সম্মাননা
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ এবং উল্লেখযোগ্য লেখার তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে, তাঁর কলামগুলো বিভিন্ন সংবাদপত্রে নিয়মিত প্রকাশিত হয়। তাঁর লেখালেখি কেবল সাংবাদিকতা নয়, বরং এক ধরনের গবেষণা। তিনি গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, যা পাঠককে ভাবায় এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন সাংবাদিক কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না, বরং সমাজের একজন সচেতন পর্যবেক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।
ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিতে তাঁর ভূমিকা
মমিনুল ইসলাম মোল্লা তাঁর লেখার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সমাজ ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করার এক অনন্য দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তিনি শুধু ঐতিহ্য নিয়ে লেখেন না, বরং এটিকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধারণ করেন। গ্রামীণ জীবনের সরলতা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য হলো বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তোলা এবং এর প্রতি সম্মান জানানো।
ব্যক্তিগত জীবন
তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য জানা যায় না। তবে, তাঁর লেখালেখি থেকে বোঝা যায়, তিনি একজন সংস্কৃতিমনা এবং সংবেদনশীল মানুষ। পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা তাঁর প্রতিটি লেখায় প্রতিফলিত হয়।
পর্যালোচনা
মমিনুল ইসলাম মোল্লা এমন একজন ব্যক্তি, যিনি তাঁর পেশাগত জীবনের বাইরেও একজন লেখক এবং সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর কাজগুলো বাঙালি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন ব্যক্তি তার জন্মস্থান এবং ঐতিহ্যকে কতটা গভীরভাবে অনুভব করতে পারেন এবং তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন। মমিনুল ইসলাম মোল্লার মতো লেখকদের কারণেই বাংলা সাহিত্য এবং সাংবাদিকতা আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।
মামিনুল ইসলাম মোল্লা: সাংবাদিকতা ও লেখালেখির এক নিবেদিত প্রাণ
মমিনুল ইসলাম মোল্লা: চিন্তাশীল কলমের এক সৃজনশীল পথিক//
স্টাফ রিপোর্ট।।
বাংলা ভাষায় ধর্ম, সমাজ, শিক্ষা ও আত্মউন্নয়নমূলক লেখালেখির ধারায় মমিনুল ইসলাম মোল্লা একটি স্বতন্ত্র নাম। তাঁর ব্লগ poberbangla.blogspot.com-এ প্রকাশিত লেখাগুলো পাঠ করলে স্পষ্ট হয়—তিনি শুধু একজন লেখক নন, বরং একজন চিন্তাশীল পথপ্রদর্শক, যিনি কলমের মাধ্যমে সমাজের নৈতিক ও আত্মিক জাগরণে ভূমিকা রাখছেন।
✍️ লেখার বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বৈচিত্র্য
মোল্লার লেখাগুলোতে বিষয়বৈচিত্র্য রয়েছে—রমজানের আত্মশুদ্ধি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী আচরণ, সন্তান প্রতিপালনে রাসুলের পদ্ধতি, সময় ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, এমনকি আত্মসমালোচনার গুরুত্ব। প্রতিটি লেখায় তিনি ইসলামী দৃষ্টিকোণকে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে পাঠকের চিন্তাকে উসকে দেন।
তাঁর লেখার ভাষা সহজ, প্রাঞ্জল এবং যুক্তিনির্ভর। ধর্মীয় উদ্ধৃতি ও হাদিসের পাশাপাশি আধুনিক গবেষণা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য ব্যবহার করে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ বয়ান নির্মাণ করেন। যেমন—“শিশুদের রোজা রাখার অভ্যাস” বিষয়ে তিনি জার্মান চিকিৎসকদের মতামত তুলে ধরেছেন, যা তাঁর যুক্তিবোধ ও তথ্যনির্ভরতার পরিচয়।
🧠 চিন্তাশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মিতা
মোল্লার লেখায় চিন্তাশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মিতা স্পষ্ট। তিনি শুধু তথ্য দেন না, বরং পাঠককে ভাবতে বাধ্য করেন। “আল্লাহর উপর ভরসা বনাম অলসতা” লেখায় তিনি তাওয়াক্কুল ও কর্মের মধ্যে ভারসাম্য রচনার আহ্বান জানিয়েছেন—যা ইসলামী দর্শনের গভীরতা ও বাস্তব জীবনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে।
🏠 সমাজ ও পারিবারিক জীবনে প্রভাব
“পরিবারে শান্তি ফিরিয়ে আনুন কুরআনের আলোকে” কিংবা “সন্তান প্রতিপালনে রাসুলের পদ্ধতি” লেখাগুলোতে তিনি সমাজ ও পরিবারে ইসলামী মূল্যবোধের প্রয়োগযোগ্যতা তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখায় দার্শনিকতা নয়, বাস্তবতা ও প্রয়োগযোগ্যতা বেশি।
📚 শিক্ষাবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি
“শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা জরুরি কেন?” লেখায় তিনি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এখানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
---
🔍 গঠনমূলক মূল্যায়ন
মমিনুল ইসলাম মোল্লার লেখাগুলো পাঠকের চিন্তা জাগ্রত করে, সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ গড়ে তোলে। তবে কিছু লেখায় আরও পরিসংখ্যান, বাস্তব উদাহরণ বা সমসাময়িক প্রেক্ষাপট যুক্ত হলে বিশ্লেষণ আরও শক্তিশালী হতো। তাঁর লেখার ধারাবাহিকতা ও বিষয় নির্বাচন প্রশংসনীয়, তবে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে মাঝে মাঝে গল্পধর্মী উপস্থাপন বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছোঁয়া যুক্ত করলে তা আরও প্রাণবন্ত হতে পারে।
মমিনুল ইসলাম মোল্লা একজন সৃজনশীল লেখক, যিনি কলমের মাধ্যমে সমাজ, ধর্ম ও শিক্ষা নিয়ে গভীর ভাবনা প্রকাশ করেন। তাঁর লেখায় রয়েছে যুক্তি, বিশ্বাস, বাস্তবতা ও মানবিকতা। বাংলা ব্লগজগতে এমন চিন্তাশীল লেখকের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
শিক্ষা চিন্তা ও কলমে -মমিনুল এক অনবদ্য নাম
শিক্ষা চিন্তা ও কলমে মমিনুল -কুমিল্লায় অনবদ্য//স্টাফ রিপোর্টার।।মমিনুল ইসলাম মোল্লা কুমিল্লার একজন বিশিষ্ট শিক্ষক, সাংবাদিক ও চিন্তাশীল লেখক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করে আসছেন। তাঁর লেখাগুলোতে যেমন রয়েছে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ, তেমনি রয়েছে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ছাপ। rosebanglablogspot এবং ranirbangla ব্লগে প্রকাশিত তাঁর অন্তত ২০টি লেখার সারাংশ বিশ্লেষণ করলে তাঁর কর্ম ও সাধনার বহুমাত্রিক দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিত। “দেবীদ্বারের আলোকিত শিক্ষক ছাত্তার মাস্টার” শীর্ষক লেখায় তিনি একজন আদর্শ শিক্ষকের জীবন তুলে ধরেছেন, যা তাঁর নিজের শিক্ষাদর্শের প্রতিফলন। একইভাবে “মামিন মোল্লার অনন্য কর্মসেন্চুরি” ও “১৩ লেখার পাঠকের ভালবাসায় মামিন মোল্লা” লেখাগুলোতে তাঁর লেখালেখির ধারাবাহিকতা ও পাঠকের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্কের পরিচয় পাওয়া যায়।
সাংবাদিকতা ও সমাজচিন্তার ক্ষেত্রে তাঁর লেখাগুলো যেমন “বাখরাবাদ গ্যাসফিল্ড, মুরাদনগর” বা “ভাওয়াল রাজবাড়ি, গাজীপুর”—স্থানীয় ইতিহাস, সম্পদ ও পর্যটনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অন্যদিকে “কাঁচা খাবেন না, ‘না-Yes’ সবজি”, “কামরাঙ্গা খাওয়ার উপকারিতা” বা “আমলকী সংরক্ষণের নিয়ম”—এই লেখাগুলোতে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে তাঁর গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
ranirbangla ব্লগে তাঁর লেখাগুলো আরও গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী। “বঙ্গভঙ্গ রদের কারণ” ও “সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান” লেখাগুলোতে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে তাঁর গভীর অনুধাবন প্রতিফলিত হয়েছে। “আইনি সহায়তা: দিচ্ছে ব্র্যাক”, “আর নয় গৃহকর্মী নির্যাতন” বা “বিনাদোষে তালাক: নির্যাতনের শামিল”—এই লেখাগুলোতে তিনি নারীর অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।
ধর্মীয় ভাবনায়ও তাঁর লেখায় রয়েছে গভীরতা। “পাবিত্র সাধনায় গোসল” ও “হায়েজ-নিফাসে পাবিত্রতা লাভ” লেখাগুলোতে ইসলামী বিধান ও ধর্মীয় পবিত্রতা নিয়ে তাঁর সুসংহত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
মমিনুল ইসলাম মোল্লার লেখনী শুধু তথ্য পরিবেশন করে না, বরং পাঠকের চিন্তাকে জাগ্রত করে। তিনি একজন সমাজসচেতন শিক্ষক, যিনি কলমের মাধ্যমে আলোকিত সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর কর্ম ও সাধনা কুমিল্লার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর বাংলাদেশে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
ছন্দে ছন্দে কোরআন শিক্ষা মমিনুল ইসলাম মোল্লার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
ছন্দে ছন্দে কোরআন শিক্ষা মমিনুল ইসলাম মোল্লার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ//স্টাফ রিপোর্টার।।ছন্দে ছন্দে কোরআন শিক্ষা : মমিনুল ইসলাম মোল্লার অনন্য উদ্যোগ//স্টাফ রিপোর্টার।।
পবিত্র কোরআন মুসলমানদের জীবনের আলোকবর্তিকা। এর প্রতিটি হরফে লুকিয়ে আছে আল্লাহর রহমত, বরকত ও হিদায়াতের দিকনির্দেশনা। তাই কোরআন শেখা ও সঠিকভাবে তিলাওয়াত করা প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরজ। কোরআনের অক্ষরগুলো উচ্চারণে সামান্য ভ্রান্তিও অর্থের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এ কারণেই তাজবীদের নিয়ম জানা এবং তা চর্চা করা অপরিহার্য। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করেছেন শিক্ষক, সাংবাদিক ও ধর্মীয় আলোচক মমিনুল ইসলাম মোল্লা। তিনি ছন্দের মাধ্যমে কোরআন শেখার অনন্য এক কৌশল উপহার দিয়েছেন, যা পাঠকের মনে শিক্ষার আনন্দ জাগায়।
মাখরাজের নিয়ম: উচ্চারণে সততা
তিনি ছন্দে লিখেছেন, “দুই ঠোঁটে চার হরফ, আরবি পড়বো খেটেখুটে”— এই কথাগুলিতে আছে উচ্চারণের নিখুঁততা অর্জনের তাগিদ। ঠোঁট, জিহবা ও মুখের অবস্থান অনুযায়ী হরফ উচ্চারণের পদ্ধতি বুঝিয়ে দিয়েছেন সহজ শব্দে। ‘ওয়াও’, ‘মিম’, ‘বা’ ও ‘ফা’— এই চার হরফের মাখরাজের ব্যাখ্যা তিনি ছন্দে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে, শিক্ষার্থীরা সহজেই মনে রাখতে পারে।
ওয়াকফের নিয়ম: থামার কৌশল
কোরআন তিলাওয়াতে কোথায় থামতে হবে, কোথায় থামা যাবে না— এটি জানা জরুরি। লেখক বলেন, “মিম চিহ্ন এলে থামাথামি পাকা, এ নিয়মের অবহেলায় আয়াত হবে বাঁকা।” অর্থাৎ, ওয়াকফের নিয়ম না মানলে অর্থ বিকৃতি ঘটে। তার এই ছন্দগুলো তিলাওয়াতকারীদের মনোযোগী করে তোলে।
নুন সাকিনের পাঁচ নিয়ম: গুন্না ও ইখফার শিক্ষা
নুন সাকিন ও তানউইনের নিয়ম নিয়ে তিনি লিখেছেন— “তা, ছা, জিম, দাল, জাল, যা, এই ছয়ে মিলে হয় ইখফা।” শিক্ষার্থীরা এই ছন্দ মুখস্থ করলে সহজেই ইজহার, ইদগাম, ইখফা ও ইকলাবের পার্থক্য বুঝতে পারে।
মাদ্দ ও কলকলার নিয়ম: সুন্দর তিলাওয়াতের প্রাণ
মাদ্দের তিন হরফ— আলিফ, ইয়া, ওয়াও— নিয়ে তার লেখায় উচ্চারণের গভীর দিক তুলে ধরা হয়েছে। “ধাক্কা দিয়ে পড়বো আমি হরফে কলকলা, এই নিয়মের অবহেলায় যায় না পথ চলা”— এই পঙ্ক্তিতে সঠিক উচ্চারণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ইস্তিয়ালা ও ‘র’ অক্ষরের মোটা উচ্চারণ
সিফাতের নিয়মে সাতটি হরফ— ক্বফ, গঈন, খ, ছ্বাদ, দ্বাদ, ত্বা, জ্বা— মোটা আওয়াজে পড়তে হয়। লেখক ছন্দে স্মরণ করিয়ে দেন, “বড় জিহবা উপরের তালুর দিকে তুলে, জবরেও আকার নেই, মোরা যেন না যাই ভুলে।” একইভাবে “র” অক্ষরের মোটা উচ্চারণের নিয়মও তিনি উদাহরণসহ সহজভাবে শিখিয়েছেন।
মমিনুল ইসলাম মোল্লার এই ছন্দময় উপস্থাপন শুধু শিক্ষণীয় নয়, বরং কোরআন শিক্ষাকে আনন্দময় ও স্মরণযোগ্য করে তোলে। শিশুরা যেমন ছড়া মুখস্থ করে শিখে, তেমনি তাজবীদের জটিল নিয়মও এই ছন্দের মাধ্যমে সহজে মনে রাখতে পারে। কোরআনের প্রতি ভালোবাসা ও তিলাওয়াতের শুদ্ধতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও অনুসরণযোগ্য।
সহিহ আকিদার প্রচারে নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা: মমিনুল ইসলাম মোল্লার ।।
সহিহ আকিদার প্রচারে নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা: মমিনুল ইসলাম মোল্লার ।। স্টাফ রিপোর্টার//
বাংলাদেশের ইসলামিক বক্তৃতা ও ধর্মীয় শিক্ষার জগতে মমিনুল ইসলাম মোল্লা একটি পরিচিত নাম। ইউটিউব চ্যানেল “posonder waz/ mamin mollah” এর মাধ্যমে তিনি সহিহ আকিদা, দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা, এবং সমাজ সচেতনতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করে যাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যে যেমন থাকে কোরআন ও হাদিসের গভীর ব্যাখ্যা, তেমনি থাকে সাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্নের উত্তর।
মমিনুল ইসলাম মোল্লার ভিডিওগুলোতে ধর্মীয় প্রশ্নোত্তর পর্ব বিশেষভাবে জনপ্রিয়। “Top Ten Islamic Bangla Questions” সিরিজে তিনি নামাজ, রোজা, হালাল-হারাম, হাশরের ময়দান, হজ্ব, নারীর নিফাসকালীন বিধান ইত্যাদি বিষয়ে যুক্তিসম্মত ও সহিহ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে জটিল ধর্মীয় বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ দ্বীনের মূল শিক্ষা বুঝতে পারে এবং বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে পারে।
একটি উল্লেখযোগ্য ভিডিওতে তিনি সূরা বাকারা’র আলোকে ব্যবসা-বাণিজ্যের নৈতিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। এখানে তিনি হালাল উপার্জনের গুরুত্ব, প্রতারণা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা, এবং ইসলামের অর্থনৈতিক নীতিমালা তুলে ধরেন। অন্য একটি ভিডিওতে রমজান মাসের প্রস্তুতি নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করেছেন, যা একজন মুসলমানকে আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করে।
তাঁর ধর্মীয় সেবার আরেকটি দিক হলো সমাজ সচেতনতা। “সড়ক দুর্ঘটনার রোধে আমাদের করণীয়” শীর্ষক ভিডিওতে তিনি ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপদ চলাচল, দায়িত্বশীলতা, এবং জীবন রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এটি প্রমাণ করে যে তিনি শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং সমাজের কল্যাণেও সচেতন।
মমিনুল ইসলাম মোল্লার ইউটিউব চ্যানেলটি যেন এক ভার্চুয়াল মাদ্রাসা, যেখানে সহিহ আকিদার আলোকে দ্বীনের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁর বক্তব্যে থাকে বিনয়, যুক্তি, এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা। তিনি ধর্মকে ভয় নয়, ভালোবাসা ও জ্ঞান দিয়ে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
এই ধারাবাহিক ধর্মীয় সেবা শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজে নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি, এবং আল্লাহর পথে ফিরে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণা। মমিনুল ইসলাম মোল্লা তাঁর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, এবং আন্তরিকতা দিয়ে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক মূল্যবান সম্পদ।
মমিনুল ইসলাম মোল্লা: শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
মমিনুল ইসলাম মোল্লা: শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
স্টাফ রিপোর্ট
মমিনুল ইসলাম মোল্লা বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে, যেখানে তিনি ছাত্রদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধি এবং নৈতিক মান উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শিক্ষকতা তাঁর জন্য শুধুমাত্র পেশা নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। শিক্ষার্থী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক এবং শিক্ষণ পদ্ধতির সৃজনশীলতা তাঁকে অন্যান্য শিক্ষকের তুলনায় আলাদা করেছে।
শিক্ষকতা ছাড়াও, মমিনুল ইসলাম মোল্লা সাংবাদিকতার জগতে তাঁর প্রতিভা প্রমাণ করেছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিশেষ করে শিক্ষা, সমাজ ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন। তাঁর সংবাদকর্ম সর্বদা তথ্যভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও বিশ্লেষণাত্মক, যা পাঠককে শুধু খবর জানায় না, বরং সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে গভীর উপলব্ধি প্রদান করে।
কলাম লেখার ক্ষেত্রে মমিনুল ইসলাম মোল্লা তাঁর চিন্তাশীল এবং ব্যঞ্জনাপূর্ণ শৈলীর জন্য পরিচিত। তিনি শিক্ষা, সমাজনীতি, রাজনীতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক কলাম লিখে পাঠককে ভাবতে বাধ্য করেন। তাঁর কলামগুলো সাধারণত পাঠকের নিত্যজীবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ন্যায়ের ওপর আলোকপাত করে। বিশেষ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা, বেসরকারি শিক্ষকের মর্যাদা, শিক্ষা নীতি এবং সাম্প্রতিক শিক্ষানীতি নিয়ে তাঁর কলামগুলো জনপ্রিয়।
মমিনুল ইসলাম মোল্লার কলামগুলোতে প্রায়শই সমাজের সচেতন নাগরিকদের জন্য বার্তা থাকে, যা সমাজের পরিবর্তন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উদ্দীপনা যোগায়। তিনি বিশ্বাস করেন যে লেখালেখি শুধু তথ্য প্রচার নয়, বরং তা সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম। এই কারণে তিনি সাংবাদিকতার মাধ্যমে শিক্ষা ও সামাজিক নীতিতে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন এবং জনমতকে প্রভাবিত করেন।
তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম অনন্য দিক হলো শিক্ষকদের অধিকারের পক্ষে সচেতনতা সৃষ্টিতে সাংবাদিকতা ও কলাম লিখাকে কাজে লাগানো। তিনি নিয়মিতভাবে শিক্ষকদের বেতন, ভাতা, পেশাগত মর্যাদা ও শিক্ষা নীতি সংক্রান্ত সমস্যা বিশ্লেষণ করেছেন। এই সমস্ত কর্মকাণ্ড তাঁকে শিক্ষক সমাজ ও পাঠক সমাজের মধ্যে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছে।
মমিনুল ইসলাম মোল্লা শিক্ষাক্ষেত্রে যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেছেন, তা হলো নৈতিকতা, সততা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণ। শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও কলাম লেখাকে সমন্বয় করে তিনি সমাজে শিক্ষার গুরুত্ব ও শিক্ষকের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন। তাঁর কাজ শুধু তথ্য প্রদান নয়, বরং পাঠকের চিন্তা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে অবদান রাখে।
সংক্ষেপে, মমিনুল ইসলাম মোল্লা একজন বহুমুখী ব্যক্তিত্ব। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছাত্রদের মানসিক ও শিক্ষাগত বিকাশে অবদান রেখেছেন, সাংবাদিক হিসেবে তিনি সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরেছেন, এবং কলামিস্ট হিসেবে তিনি চিন্তাশীল ও সমাজ সচেতন বার্তা প্রদান করেছেন। তাঁর কাজ বাংলাদেশে শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষকদের মর্যাদা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ডিজিটাল প্রজন্মের অনুপ্রেরণা: অনলাইন এক্টিভিস্ট মমিনুল ইসলাম মোল্লা
ডিজিটাল প্রজন্মের অনুপ্রেরণা: অনলাইন এক্টিভিস্ট মমিনুল ইসলাম মোল্লা
✍️ মমিনুল ইসলাম মোল্লা — শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ডিজিটাল যুগে সমাজ পরিবর্তনের অগ্রভাগে অবস্থান করছেন এমন অনেক সচেতন মানুষ রয়েছেন, যারা কলম ও কণ্ঠের শক্তি দিয়ে মানুষকে ভাবতে শেখান। তাঁদের মধ্যে অন্যতম শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট মমিনুল ইসলাম মোল্লা। তাঁর অনলাইন উপস্থিতি কেবল তথ্য প্রচার নয়; বরং শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগরণের এক সক্রিয় আন্দোলন।
📚 শিক্ষকতার আলো, সচেতনতার দিশারি
শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন, বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ সমাজকে সঠিক ইতিহাস, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তাঁর অনলাইন লেকচার, পোস্ট ও ভিডিওগুলো মানুষকে শেখায়—শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পেশা নয়, সমাজ গঠনও একটি দায়িত্ব।
📰 সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাস্তবের প্রতিচ্ছবি
মমিনুল ইসলাম মোল্লার সাংবাদিকতা মূলত সমাজের নীরব মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। তিনি স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত ফিচার, প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে কুমিল্লা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবর্তনের গল্প তাঁর লেখার মাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে। ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁর প্রতিবেদনগুলো পাঠক-দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়, কারণ এগুলো তথ্যনির্ভর ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপিত।
✒️ কলাম লেখায় চিন্তা ও যুক্তির মেলবন্ধন
একজন কলামিস্ট হিসেবে তিনি সময়, সমাজ ও মানবজীবনের বাস্তবতাকে তুলে ধরেন যুক্তি, বিশ্লেষণ ও আবেগের সংমিশ্রণে। তাঁর লেখায় নীতি, নৈতিকতা ও সমাজ পরিবর্তনের আহ্বান থাকে। পাঠক তাঁর লেখার মাধ্যমে শুধু তথ্য পান না—একটি নতুন ভাবনার দিগন্তও খুলে যায়।
🌍 অনলাইন এক্টিভিজমে নেতৃত্ব
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তিনি সামাজিক সচেতনতা, ইতিহাসচর্চা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের কাজকে নিজের মিশন হিসেবে নিয়েছেন। ইউটিউবে তাঁর প্রকাশিত নানা ভিডিও, ফিচার ও আলোচনা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষামূলক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। তিনি অনলাইনকে ব্যবহার করেছেন ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে—যেখানে প্রতিটি কনটেন্ট সমাজকে চিন্তা ও কর্মে অনুপ্রাণিত করে।
বর্তমান সময়ের অনেক অনলাইন কনটেন্ট যেখানে শুধুই বিনোদননির্ভর, সেখানে মমিনুল ইসলাম মোল্লা ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি অনলাইন এক্টিভিজমকে শিক্ষার সম্প্রসারণ ও সমাজ উন্নয়নের একটি আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন। শিক্ষকতার জ্ঞান, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ও কলাম লেখকের দূরদৃষ্টি—এই তিন গুণের সমন্বয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের এক অনুপ্রেরণামূলক মুখ।
সাংবাদিক হাবিব জালাল স্মরণে মমিনুল ইসলাম মোল্লা


