মমিনুল ইসলাম মোল্লা
জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পচ্ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির করণে প্রতি বছর ৪০ হাজার ঘর বাড়ি তৈরী হচ্ছে। ফলে আবাদী জমির পরিমান হ্রাস পাচ্ছে। ঘর বাড়ি তৈরীসহ বিভিন্ন করণে প্রতি বছর ১% আবাদী জমি হারিয়ে যাচ্ছে বলেও পরিসংখ্যান বলছে। এমতবস্থায় বর্ধিত খাদ্যা চাহিদা মোকাবেলায় কৃষি প্রযুক্তির বিকল্প নেই।
আরো পড়ুনঃদেড়শ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে কুমিল্লার মুরাদনগর ডি আর সরকারি হাই স্কুল
তাই হাই ব্রীড ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে হাই ব্রীড এর (ধান) জয়গান গাওয়ার পাশাপাশি কেউ কেউ এর সমস্যা বা অসুবিধার কথাও বলেছেন। বাংলাদেশের আমদানী করা হাইব্রীড জাতের ধানের আবাদ শুরু হয় ১৯৯১ সালে। কিন্তু এটি জনপ্রিয়তা পায়নি। ফলে আমদানি কারকগণ উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কুমিল্লাসহ সারাদেশের চাষীদের মাঝে হাই ব্রীড ব্যবহারকারীদের সংখ্যাও জমির পরিমান বাড়ছে। তথ্যমতে ২০০৭ সালে কুমিল্লা জেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে হাই ব্রীড জাতের বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর আগের বছর এর পরিমান ছিল ৫ হাজার হেক্টর। এ বছর শুধুমাত্র দেবিদ্বার উপজেলায় হাই ব্রীড চাষ হয়েছে ২৩৮০ হেক্টর আর এতে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১১৯০০ মেট্রিক টন।
সরকার হাই ব্রীড ধান আবাদে কৃষকদের বিশেষভাবে আগ্রহী করে তুলেছেন। কৃষকগণ ব্যাক্তিগতভাবে অথবা কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী আকারে এখন সারা দেশেই কম বেশি হাই ব্রীড ধান দেখা যায়। হাতে কলমে আবাদ করে উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রী ধানের চাইতেও দ্বিগুন ফলন পেয়ে তারা আগ্রহী হচ্ছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানী সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশ থেকে হাই ব্রীড বীজ আমদানী করছে। এগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত। বর্তমানে আমাদের দেশে সোনার বাংলা-১, তিন পাতা-১০, তিনপাতা-৪০, তিন পাতা সুপার, রাইচার-১০১, এসিআই-১, হীরা আলোক ধান জনপ্রিয়। ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এগুলোর বীজ বপন করা যায়। হীরা বা অন্য জাতের হাই ব্রীড ধান চাষের আগে উপযুক্ত জমি নির্বাচন করতে হবে। এর জন্য এক ফসলী বোরো জমি সবচেয়ে উপযুক্ত। জমিটি হতে হবে ছায়া মুক্ত। প্রতি বিঘায় (২৩ শতক) ১.৫ কেজি বীজের প্রয়োজন হবে। এ বীজ কৃষি বিভাগ অথবা বিভিন্ন কোম্পানীর বিক্রয় কেন্দ্রে পাওয়া যাবে।
১.৫ কেজি অঙ্কুরিত বীজ ১ শতক (৪০ বর্গমিটার) জমিতে পাতলা করে ফেলতে হবে। ভালভাবে অঙ্কুরোদগমের জন্য প্যাকেট থেকে বীজ বের করে ১ ঘন্টা রোদে শুকিয়ে পরে ঠান্ডা করে কাপড়ের ঝোলায় শক্ত করে বেঁধে ৮/১০ ঘন্টা পরিষ্কার পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। পরে পানি ঝাড়িয়ে নিতে হবে।
বীজতলা থেকে ভাল ফল পেতে চাইলে বীজতলার যতœ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিমান জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হবে। অতিরিক্ত শীত বা কুয়াশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বীজতলাটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। চারা বড় হলে ভোরে শরা দিয়ে কুয়াশা ভেঙ্গে দিতে হবে। বীজ তলার বয়স ২৫-৩০ দিন হলে একটি গোছায় ১টি করে চারা ৮ ইঞ্চি দুরে রোপন কারতে হবে।
বোরো উৎপাদন সময়মতো এবং পরিমান মতো সার প্রয়োগের বিকল্প নেই। হাই ব্রীড ধান চাষে প্রতি একরে ইউরিয়া ১১০-১২০ কেজি লাগে। এটি বিভিন্ন সময় দিতে হয়, অন্যদিকে ৬০-৮০ কেজি টিএসপি জমি তৈরীর সময় দিতে হয়। এছাড়া ৬০-৭০ কেজি এমপি ২৮ কেজি , জিপসাম ৪ কেজি জিংক এবং ৩ কেজি বোরাক্স দিতে হয়। এ ধরনের ধানে মাজরা পোকা, গলমাছি, পামরী পোকা বাদামী গাছ ফড়িং, খোল পোকা ও খোর পচা রোগ দেখা দিতে পারে। উপযুক্ত সময়ে যথোপযুক্ত ঔষধ না দিলে ফলন ভালো হবেনা। ভালো ভাবে পানি, সার ও ঔষধ দিতে পারলে প্রতি একরে ৪ থেকে ৪.৫ টন উৎপাদন হয়। তবে হাই ব্রীডের সমস্যা হলো জমি থেকে উৎপাদিত ধান বীজ হিসেবে রাখা যায় না। প্রতি বছরই বীজ কিনতে হবে। এছাড়া ফার্মের মুরগী লালন পালনের মতো নিদিষ্ট নিয়মে নিদিষ্ট সময়ে সবকিছু করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে পানির সমস্যা, সারের সমস্যা এবং শ্রমিকের সমস্যা সবসময় লেগেই থাকে। এ অবস্থায় হাই ব্রীড নৈতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। নতুন কিছু পেলে সেটি যাচাই বাছাই করে গ্রহণ করার নিয়ম কিন্তু স্বভাব হচ্ছে ওমকে এই প্রযুক্তিতে ভালো ফলন পেয়েছে আমার সেটিই প্রয়োজন আমরা সবাই নতুনের দিকে ঝাপিয়ে পড়ি, অনেকেই বিপর্যয়ের মুখে তাই হাই ব্রীড প্রযুক্তিতে ধান বিলপ্ত করে নি বিলিয়ে দিয়ে পরনির্ভরশীল করা তাও ভেবে দেখতে হবে।তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০০৮ (পুনঃমুদ্রিত )