মোঘলঐতিহ্য:কুমিল্লার চান্দিনার রাজকালিবাড়ি


মোঘলঐতিহ্য:কুমিল্লার চান্দিনার রাজকালিবাড়ি

মমিনুল ইসলাম মোল্লা

কুমিল্লার ঐতিহ্য চান্দিনা রাজকালিবাড়ি। ঢাকা-কুমিল্লা রোডে চান্দিনা বাস স্টেশনের পাশেই এর অবস্থান। কিছু কাল আগেও এখানে দুটি নিদর্শন ছিল। অযতœ আর অবহেলায় হারিয়ে গেছে রাজকাচারিটি। এখন রয়েছে রাজ কালিবাড়ি আর বিখ্যাত কালি মন্দিরটি। এটি মোঘল আমলের বলে অনুমান করা হয়। স্থানীয় কোন হিন্দু প্রবাবশালী ব্যাক্তি মোঘল স¤্রাটদের সহযোগিতায় মন্দিরগুলো স্থাপন করেছিলেন বলে জানা যায়।এখানে অনেকগুলো মন্দিার রয়েছে। শিব মন্দির দুটি খুবই উঁচু। এগুলো অনেক দূর থেকে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুধু মাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বী নয় সকল ধর্মের লোকদের জন্য এটি একটি ঐতিহ্য। তাই এখানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পূজা-পার্বণে হিন্দুদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও অংশগ্রহণ করেন। শিব মন্দির দুটির উচ্চতা ১৫০ ফুট। কালিমন্দিরের পাশে রাধাগোবিন্দ মন্দির ও নাট মন্দির রয়েছে। তবে রাধা গোবিন্দ মন্দিরটির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে ঐ মন্দিরটির ছাদ ধ্বসে পড়েছে। দেয়ালগুলোর কয়েক যায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন যায়গা থেকে ইট খসে পড়েছে। দেয়ালের ফাঁকে অশ্বথ্ব গাছ জন্মেছে। মন্দিরগুলোর প্রবেশ ফটকের উপরের দেয়ালে খোঁদাই করা কতগুলো মূর্তি রয়েছে। মন্দিরের চ‚ড়ায় লোহার তৈরি ত্রিশুল রয়েছে। এ মন্দিরে গুরুত্বপূর্ণ ধন-মসম্পদ ঝিছল বলে জানা যায়। ১৯৭১ সালে সংগঠিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনী কর্তৃক এটি ব্যাপকভাবে লুন্ঠিত হয় বলে স্থানীয় হিন্দুগণ জানান। এমনকি মন্দিরের দরজা জাানালাগুলোও লুট করে নিয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এ কালিবাড়িটিতে কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। কুমিল্লার কান্তি রাহার আর্থিক সহযোগীতায় ২০০৭  কালি মন্দিরটি সংস্কার করা হয়। নাট মন্দিরটির সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় এ মন্দিরটি রক্ষায় এগিয়ে আসেন এক ধর্মপ্রাণ হিন্দু বারদির শ্রী প্রবির চন্দ্র সাহা। ২০০৮ সালে তিনি সংস্কার কাজ শুরু করেন।এখানে অবস্থিত রাজ কাচারিটিও একসময় সাধারণ দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। কালের বিবর্তনে অযতœ-অবহেলায় এটি হারিয়ে গেছে। ২০০৪ সালে এটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। বর্তমানেরাজকালিবাড়ির পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক গৌরাঙ্গ সাহা জানান, যুগ যুগ ধরে অবহেলার কারণে মন্দিরগুলো বর্তমানে ভগ্নপ্রায়। এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। আর এজন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সাহায্য। বছরের বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন যায়গা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। কিন্তু এগুলোর ভগ্নদশা দেখে সবাই আফসোস করেন। মোঘল আমলের এ ঐতিহ্যটি সরকারের প্রতœতত্ত অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে একে রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। লেখক:কলেজ শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিস্ট 



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.