হাদিস চর্চায় ইমাম নববী (রহঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু শরাফ ইবনু মুরী ইবনু হাসান বিন
হুসাইন।
তার জন্ম আল-নাওয়ার এর গ্রামে যেটা এখনও উপস্থিত দামেষ্কের কাছে।জন্ম
তারিখ: ৬৩১ হিজরী মুহাররম মাসে।ইমাম নববীর তার জীবদ্দশায় এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন, যে তিনি উপধি লাভ করেছিলেন, মুহিউস সুন্নাহ (সুন্নাতের পুনরিজ্জবনকারী)আবার অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, মুহিউদ্ দ্বীন।
Ballokal তিনি মাত্র দশ বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেন।সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হচ্ছে যে, তিনি ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র শিক্ষিত ব্যক্তি।তিনি এসেছিলেন নিরক্ষর পরিবার থেকে।এ থেকে প্রমাণ হলো যে, বিদ্যার সর্বোচ্চ পিঠে উঠার জন্য শিক্ষাগত পটভুমি থাকা বাধ্যতামূলক নয়।ইমাম নববীর বাবা ছিলেন েএকজন দোকানদার যিনি গ্রামে একটি ছোট দোকান চালাতেন।কোন জ্ঞানী ব্যক্তির বসবাস ছিলো না নববী গ্রামে।
Lekhapora
দামেস্কতে তিনি বিখ্যাত আর-রাওয়াইয়াহ মক্তবে দুই বছর পড়ালেখা করেন এবং সেই সময়ে তিনি ছাত্রদের মধ্যে একজন আদর্শ রূপে আবির্ভূত হন।তিনি দিনে ১২টি বিষয় পড়তেন, যেখানে অন্যান্য ছাত্ররা ৪-৫টা বিষয় পড়তেন।তার ছাত্রর বর্ণনা করেন যে সে সময় তিনি দুইবছর ধরে বালিশ ব্যবহার করেন নি।কারণ তিনি ঘুমের চেয়ে জ্ঞানকে বেশী অগ্রাধিকার দিতেন।
দুই বছর পর তিনি পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেন তার বাবার সাথে, সেই সময় মক্কা শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক রাজধানী ছিলো না, সেই সাথে ছিলো বিভিন্ন জ্ঞানীদের পদচারণায় মুখর।
যখন ইমাম নববী দামেস্কতে ফিরে আসেন তখন তিনি আবার চার বছর পড়াশুনা করেন।এটা বেশ অবাক করা ব্যাপার যে, তিনি সেই ছয় বছরে এতটাই শিখেছিলেন য, তিনি একজন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
Damaske
gomon সেই সময়ে ইমাম নববী তার
সর্বোত্কৃষ্ট চেষ্টা করেন তার
বাবাকে বুঝাতে।এবং
সেই সাথে ইসলাম নিয়ে
পড়ালেখা চালিয়ে যেতে।যখন
ইমাম নববী ১৭-১৯
বয়স বছরে পদার্পন করলেন,
তখন তিনি তার বাবার
কাছে পুনরায় অনুমতি চাইলেন, তথন
তার বাবা তাকে অনুমতি
দিলেন, কিছুদিন পরে তিনি ইসলাম
নিয়ে পড়ালেখা করে তার জ্ঞানের
প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন। ৬৫১
হি আশেপাশে তিনি দামেস্ক যান।
Sadona
ইমাম নববী হাদীস, ফিকহ, শাফেয়ী ফিকহ, আরবী ভাষা প্রভৃতিতে ছিলেন অসাধারণ।তিনি অনেক বই লিখেছেন, তার মধ্যে A. চল্লিশ হাদীস ইমাম নববীর B. রিয়াদুস সালেহীন C. শরহে মুসলিম শরাহ গ্রন্থ বলতে বাংলায় ভাষ্যগ্রন্থ বলা হয় সহজ বাংলায় বলা হয়, ব্যাখ্যা গ্রন্থ।যেমন বুখারী শরীফের শরাহ গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফাতহুল বারী,উমদাতুল কারী প্রভৃতি।D. আত-তিবিয়ান ফি আদাব হামালাত আল কুরআন E. রাওয়াধান আত-তালিবান F. আল মাজমুউ G. মুখতাসার উসুদুল গাবাহ H. জামিউস সুন্নাহ I. তাহযীবুল আসমা ওয়াস সিফাত J. কিতাবুর রাওদা্হ K. কিতাবুল আযকারL. শরহে সুনানী আবু দাউদM. বুস্তানুল আরেফীনN. রিস্বলাতুল ইসতিহবাবুল কিয়াম লি আহলিল ফাদলO. তাবাকাত ফুঁকাহায়ে শাফেইয়াP. সহীহ বুখারীর শারহে কিতাবুল ঈমানQ. কিতাবুল মুবহাবাতR. ইরশাদ ফি উলুমিল হাদীসS. রিসালাহ ফি কিসমাতিল গানাইমT. শারহে সুনানে আবী দাউদU. শারহে মুহাযযাব অন্যতম।
Jibon zapon তিনি তার জীবন ধারণে খুবই সহজ সরল ছিলেন তিনি তার কাজের জন্য কোনরূপ payment নিতে অস্বীকার করেন, তার একটি ঘর ছিলো যা বইয়ে পরিপূণ ছিলো।এমনই যে তার ছাত্ররা এসে বসার জায়গা পেত না।
তার ছাত্ররা একদিন প্রশ্ন করলেন যে, শায়খ! আপনি অনেক সুন্নাহ পালন করেন কিন্ত একটি ছাড়া (বিবাহ)? তখন ইমাম নববী বলেন, যে তার ভয় হয় যে, তিনি এই সুন্নাহ পালন করতে গিয়ে আরেকটি পাপ সংগঠিত করেন।
মৃত্যু: তিনি আল-কুদস (জেরুজালেম)চলে যান এবং সেখানে স্বল্প সময়রে জন্য শিক্ষা দেন।যখন তিনি দামেস্কতে ফিরে আসেন তিনি অসুস্থতায় ভুগেন দুই মাস ধরে।তারপর আরও অসুস্থ হতে থাকেন।এবং তিনি তার গ্রামে ফিরে আসেন।তিনি ৬৭৬হি তে শনিবার ২৪শে রজব ৪৫-৪৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে বলেন, তিনি তিনটি চারিত্রিক বৈশিষ্টকে একত্রিত করতে পেরেছিলেন, যদি কারও একটি থাকত তবে যে কেউ ইমাম হতে পারতেন,1) যুহদ2) বৃত্তি 3) অন্যায়ের প্রতিরোধ ও সত্য বলার সাহসিকতা
মমিনুল ইসলাম মোল্লা
