দাঁড়িয়ে পেশাব করা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
নামাজ,রোজা,হজ্ব,যাকাতের মত আমাদের দৈনন্দিন
বিষয়সমূহেও ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা রাতে ঘুমুতে যাবার পর থেকে অঅবার পরের দিন
ঘুমানোর সময় পর্যন্ত সকল কাজে ইসলামের বিধান রয়েছে। নিম্নে পেশাব০-পায়খানার আদব সম্পর্কে
আরোচনা করা হলো।
Adob
pesab প্রাকৃতিক প্রযোজনপূর্ণ করার সময় তাঁর আদর্শমালা :১. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পায়খানায় প্রবেশকালে বলতেন :«اللهم إني أعوذ بك من
الخبث والخبائث»‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু-বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাব-ইস।’“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অপবিত্র নর জ্বিন ও অপবিত্র নারী জ্বিন হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”[2]আর পায়খানা হতে বর্হিগমন কালে বলতেন:(غفرانك)‘গোফরানাকা’“হে আল্লাহ! আমি তোমার ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”২. তিনি অধিকাংশ সময় বসে প্রস্রাব করতেন।৩. তিনি কখনো পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতেন, আবার কখনো পাথর দিয়ে কুলুখ করতেন, আবার কখনো কুলুখ ও পানি উভয়টি ব্যবহার করতেন।৪. তিনি ইস্তিঞ্জা ও কুলুখ বাম হাত দিয়ে সম্পাদন করতেন।৫. তিনি পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা শেষে হাত মাটিতে ঘষে ধৌত করে নিতেন।এছাড়া খোলা স্থানে হ’লে দূরে
গিয়ে আড়ালে পেশাব-পায়খানা করবে।এ সময় ক্বিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ ফিরে পেশাব-পায়খানা
করা নিষেধ। সামনে পর্দা রেখে বসে পেশাব করবে। অনিবার্য কারণ ব্যতীত দাঁড়িয়ে পেশাব করা
যাবে না। নরম মাটিতে পেশাব করবে। যেন পেশাবের ছিটা কাপড়ে না লাগে। পেশাব হ’তে ভালভাবে
পবিত্রতা হাছিল করা যরূরী। রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমরা পেশাব
থেকে পবিত্রতা অর্জন কর। কেননা অধিকাংশ কবরের আযাব একারণেই হয়ে থাকে’।
Daria pesab দু’টি শর্তের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা যায়ঃ১) প্রস্রাবের ছিটা থেকে সে নিরাপদ থাকবে।২) কেউ যেন তার লজ্জাস্থানের প্রতি দৃষ্টিপাত না করতে পারে।
Pani doson পানি দূষণ থেকে সতর্কীকরণ : নবী (ﷺ) চলাচলের রাস্তা এবং যে কোনো জলাধারে মলত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন। মা‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,« اتَّقُوا الْمَلاَعِنَ الثَّلاَثَ الْبَرَازَ فِى الْمَوَارِدِ وَقَارِعَةِ
الطَّرِيقِ وَالظِّلِّ ».
‘তোমরা অভিশাপ ডেকে আনার তিন কাজ থেকে বিরত থাক। চলাচলের রাস্তায়, রাস্তার মোড়ে অথবা ছায়ায় পেশাব করা থেকে।’ [আবূ দাঊদ : ২৬ ; ইবন মাজা : ৩২৮]
Zaiga napak কোন স্থান যদি নাপাক হয়, আর সেটার নাপাকি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, তবে সে স্থানে নামায শুদ্ধ হবে না। এ ক্ষেত্রে নামাযটি পুনরায় আদায় করতে হবে। কিন্তু যদি সে স্থানে নাপাকি আর স্পষ্ট না থাকে, যেমন কোন মাটিতে পেশাব থাক আর বাতাস বা রোদে তা শুকিয়ে যায় এবং পেশাব ছিল বলে কোন কিছু স্পষ্টভাবে বোঝা না যায়, তবে সেখানে নামায পড়া যাবে। কিন্তু যদি জায়গাটি পাকা হয় এবং পানি পড়লে পেশাবের গন্ধ বের হতে থাকে, তবে সে জায়গা ধুয়ে ফেলতে হবে।যদি বাচ্চাটি ছেলে হয় এবং এমন হয় যে সে মায়ের দুধ ছাড়া আর কিছু খায় না, সেক্ষেত্রে তার প্রস্রাবকে হাল্কা ধৌত করলেই চলবে। পক্ষান্তরে যদি মেয়ে বাচ্ছা হয়, তবে সেটা ভাল করে ধৌত করতে হবে।
Mozi ber hole ✔ কেবল স্ত্রীদের চুম্বন ও স্পর্শ করার ফলে স্বামীর উযূ ভাঙ্গে না, স্ত্রীরও না। মহানবী (ﷺ) স্ত্রী চুম্বন করে স্বলাত এবং (তাঁর আগে) উযূ করতেন না। ১১৮ (আহমাদ, আবূ দাঊদ, নাসাঈ, সঃ জামে’ ৪৯৯৭ নং)অবশ্য সেই চুম্বন বা স্পর্শের ফলে প্রস্রাব-দ্বার হতে “মাযী” (পাতলা আঠালো পদার্থ) বের হলে উযূ ভেঙ্গে যাবে।
Dila kolokh পায়খানার
পর পানি দিয়ে বাম হাতে ইস্তেঞ্জা করবে।অতঃপর মাটিতে (অথবা সাবান দিয়ে) ভালভাবে ঘষে
পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবে।পানি পেলে কুলূখের (মাটির ঢেলা) প্রয়োজন নেই। স্রেফ পানি
দিয়ে ইস্তেঞ্জা করায় ক্বোবাবাসীদের প্রশংসা করে আল্লাহ সূরা তওবাহ ১০৮ আয়াতটি নাযিল
করেন। তবে পানি না পেলে কুলূখ নিবে। এজন্য তিনবার বা বেজোড় সংখ্যক ঢেলা ব্যবহার করবে।ডান
হাত দিয়ে ইস্তেতঞ্জা করা যাবে না এবং শুকনা গোবর, হাড় ও কয়লা একাজে ব্যবহার করা যাবে
না।কুলূখ নিলে পুনরায় পানির প্রয়োজন নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন যে, ‘পানির বদলে কুলূখই যথেষ্ট হবে (فَإِنَّهَا تُجْزِئُ عَنْهُ)’।কুলূখ
নেওয়ার পরে পানি নেওয়ার যে বর্ণনা প্রচলিত আছে, তার কোন ভিত্তি নেই।
Daria
pesab qq✔ প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা যায়। যদি কাপড়ে তার ছিটা লাগার ভয় না থাকে। নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন। ( বুখারি ২২২৪, মুসলিম ২৭৩ নং) তবে বসে প্রস্রাব করাই উত্তম। যাতে সাবধান হওয়া যায়। আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেন, “ তোমরা প্রস্রাব থেকে সাবধানতা অবলম্বন কর। কারণ, অধিকাংশ কবরের আযাব এই প্রস্রাব (থেকে সাবধান না হওয়ার) ফলেই হয়ে থাকে। ( দারাকুত্বনী, সহিহ তারগিব ১৫১ নং)
নবিজীর প্রস্রাব- পায়খানা হত এবং তা অপবিত্র ছিল। তাঁর নাপাকীর উযু-গোসলের প্রয়োজন হতো।১১(তিরমিযী ২৪৯১নং) জীবিত ছিলেন, ইন্তিকাল করেছেন। মানুষের সকল প্রকৃতি ও প্রয়োজন তাঁর মাঝে ছিল।
Sisoder pesab ddরাসূলের কোলে শিশুদের প্রস্রাব
উম্মে কায়স বিনতে মিহসান থেকে বর্ণিত, তিনি তার দুগ্ধপোষ্য
শিশুকে নিয়ে রাসূলের দরবারে আসলেন। রাসূল (ﷺ) তাকে তার কোলে রাখলেন, সে তার কোলে প্রস্রাব করে দিল। তারপর তিনি পানি
নিয়ে আসতে বললেন এবং পানি ছিঁটিয়ে দিলেন এবং তা ধৌত করেননি। (সহীহ আল-বুখারি ২২৩)
Mosgide pesabবিশিষ্ট সাহাবী আনাস বিন মালেক
রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে মসজিদে ছিলাম। একজন বেদুইন
মসজিদে প্রবেশ করল। এবং কিছু সময় পর মসজিদেই প্রস্রাব করতে উদ্যত হল। এ অবস্থা দেখে
সাহাবারা তাকে বললেন: থাম... থাম...।
পরিস্থিতি দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, প্রস্রাব
বন্ধ করতে বাধ্য করো না। (এতে তার ক্ষতির আশঙ্কা আছে)
তারা তাকে ছেড়ে দিল, সে প্রস্রাব করল।
অত:পর রাসূলুল্লাহ তাকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন
: এ মসজিদগুলোতে প্রস্রাব পায়খানা ও এ ধরনের কদর্য কাজ করা শোভনীয় নয় বরং এগুলো নির্মাণ
করা হয়েছে আল্লাহর যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের জন্যে।
বর্ণনাকারী বলছেন: এরপর নবীজী তাদের একজনকে
(পরিষ্কার করার) নির্দেশ দিলেন, তিনি পানি ভর্তি একটি বালতি এনে তাতে ঢেলে দিলো।
kobore prosrab একজন মুসলিমের কবরের সম্মান প্রদর্শনের
শরী‘আত স্বীকৃত পন্থা হচ্ছে-শর‘য়ী কোনো ওজর ব্যতীত
এর উপর দিয়ে বিচরণ না করা, এর উপরে না বসা, এর উপর প্রস্রাব-পায়খানা না করা, চতুষ্পদ
জন্তু এর উপর বিচরণ করতে না দেয়া।
kane pasab ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত যে, রাসূল
(ﷺ)-এর কাছে এমন একজন লোকের আলোচনা
করা হল যে, ব্যক্তি সকাল পর্যন্ত ঘুমায়। তিনি বললেন, ‘এ লোকটি তো এমন লোক, শয়তান যার
কানে প্রস্রাব করেছে। (বুখারী ও মুসলিম)
আবু কাতাদাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণন করছেন:তোমাদের কেউ
যেন প্রস্রাব করার সময় পুরুষাঙ্গ ডান হাত দ্বারা স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দ্বারা
যেন ইস্তেনজা না করে। অনুরূপ খাবার পাত্রে যেন শ্বাস না ফেলে।
Doa pesab যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণিত হাদীসে
এসেছে, নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন,
এ সকল প্রস্রাব পায়খানার নোংড়া স্থানগুলোতে শয়তানরা উপস্থিত থাকে। যখন তোমাদের কেহ
এখানে আসবে তখন যেন সে বলে, আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ
(হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে জিন নর ও জিন নারী থেকে আশ্রয় নিচ্ছি) বর্ণনায় : আবু দাউদ।অতএব
আমরা এ হাদীস থেকে বুঝলাম জিন, ভূত, শয়তান নোংড়া স্থানে অবস্থান করে। এ সকল নোংড়া স্থান
থেকে সকলের দূরে থাকা উচিত।
Jin obosthan শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া
রহ. বলেন, সাধারণত জিনেরা ময়লা আবর্জনা, মল-মুত্র ত্যাগের স্থান ডাষ্টবিন ও কবর স্থানে
অবস্থান করে। (মজমুআল ফাতাওয়া
Prokritigot sonnot আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “দশটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ;(১) গোঁফ
ছেঁটে ফেলা।(২) দাড়ি বাড়ানো।(৩) দাঁতন করা।(৪) নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা।(৫)
নখ কাটা।(৬) আঙ্গুলের জোড়সমূহ ধোয়া।(৭) বগলের লোম তুলে ফেলা।(৮) গুপ্তা-ঙ্গের লোম পরিষ্কার
করা।(৯) পানি দ্বারা ইস্তেঞ্জা (শৌচকর্ম) করা।
লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা,সাংবাদিক
ও গবেষক
