সাফল্য কথন ঃআর্দশ মানুষ তৈরীর প্রতিষ্ঠান এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়
মমিনুল ইসলাম মোল্লা১৯৪৮ সালে আলহাজ্ব কেয়াম উদ্দীন ভূঁইয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলাধীন এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় দেবিদ্বার উপজেলা তথা কুমিল্লা জেলার শিক্ষাঙ্গনে এক গৌরবোজ্জ্বল স্থান দখল করে আছে। কুমিল্লা-সিলেট রোডে ২৫ কিলোমিটার গিয়ে সামান্য দক্ষিণ দিকে (৩ কিলোমিটার) চান্দিনা রোডে এলাহাবাদ বাজার থেকে একটু পশ্চিমে গ্রামীণ পরিবেশ বিদ্যালয়টি অবস্থিত। প্রতিষ্ঠান কালিন সময়ে এলাহাবাদের পাশ্ববর্তী কোন গ্রামে উচ্চ বিদ্যালয় ছিল না। এ এলাকার ছাত্ররা দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দীন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অথবা জাফরগঞ্জ গঙ্গামঙ্গল রাজ ইনস্টিটিউটে গিয়ে লেখাপড়া করতে হতো। তখন এলাহাবাদের বিশিষ্ট ব্যক্তি কেয়াম উদ্দীন মাষ্টার একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চিন্তা করলেন। তখন তিনি হোসেন তলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ১৯৪৮ সালে এটি মাইনর স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এ স্কুলে শুধু মাত্র পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ার সুযোগ ছিল। পরবর্তীতে এটি অষ্টম পর্যন্ত এবং ক্রমান্বয়ে এস.এস.সি পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা করা হয়।২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে ৯৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ৯২.৪৭। তাদেও মধ্য থেকে ২জন জিপিএ ৫ পায়।
আয়তনঃ এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্পদের পরিমান ১ একর ৫০ শতক। বর্তমানে দক্ষিণ ভিটের ফ্যাটিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের (শিক্ষা ও প্রকৌশল বিভাগ) আওতাধীন একটি পাকা দালান ও পূর্ব পশ্চিমে একটি শেড বিল্ডিং রয়েছে। শ্রেণীর কক্ষসহ মোট কক্ষের সংখ্যা ১২টি।
যাতায়াত ব্যবস্থাঃ এক সময় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রিদের যাতায়াতের রাস্তা সুবিধা জনক ছিল না। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তা রয়েছে। এটি এলাহাবাদ বাজার থেকে দেবিদ্বার চান্দিনা সড়ক পর্যন্ত এবং দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের রাস্তাও পাকা। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা সহজেই বিদ্যালয়ে আসতে পারে।
ছাত্র-ছাত্রী সংক্রান্তঃ বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতির হার ৯০%। ১২০ জন ছাত্রী বর্তমানে উপভিত্তি পাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাঠাগারে প্রায় ১,০০০ বই রয়েছে।
শিক্ষক সংক্রান্তঃ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১২ জন শিক্ষক ও চার জন কর্মচারী রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকগণ হচ্ছেন- পরিমল বিকাশ দত্ত (প্রধান শিক্ষক), মোহাম্মদ হুমায়ন কবির (সহকারী প্রধান শিক্ষক)। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকগণ হচ্ছেন- এ.কে.এম. আবদুল বারী সরকার, অমর চন্দ্র পাল, মোহাম্মদ লেয়াকত আলী, বাছির আহাম্মেদ, দুঃখীরাম দাস, আবদুল লতিফ, শাখাওয়াত হোসেন, চন্দ্রনা রাণী রায়, সাহানা চৌধুরী ও আবদুর রাজ্জাক।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকগণঃ এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রধান শিক্ষক ছিলেন- বাবু বুবন চন্দ্র দেবনাথ। দ্বিতীয় কবির আহাম্মেদ এবং তৃতীয় আবদুল মতিন ভূঁইয়া। তিনি ১৯৬০ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ শে মার্চ ২০০৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা শহরে অবসর জীবন-যাপন করছেন।
নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকঃ এ উচ্চ বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষক আন্তরিকতার সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করে ছাত্র-ছাত্রীদের হৃদয়ের মনি কোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। তারপর ও দু’একজন বিশেষভাবে স্বরণীয়। তাদের মধ্যে মরহুম চাঁন মিয়া অমর হয়ে আছেন। তিনি ২৩ শে জানুয়ারী ১৯৬৯ ইং থেকে ১১ অক্টোবর ১৯৯৯ইং পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে আত্ম নিয়োগ করেছেন। তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেন নি। তাঁর জীবনের ভিশন এবং মিশন সবই ছিল ছাত্রদের নিয়ে। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি খেলাধুলা ও করতেন। ৪৮ বছর বয়সেও ২৫ বছরের উদ্যমী তরুনদের মত মাঠে নামতেন। তার অনুপ্রেরণায় কুমিল্লা (উঃ) জেলা দ্রুতমত মানব (১০০ মি দৌড়ে ১ম স্থান) ফুটবল খেলোয়ার নজরুল ইসলাম সরকার। মফিজুল ইসলাম ও আবদুল মান্নান ইলিয়াসের মত বিখ্যাত ক্রিড়াবিদ গড়ে উঠেছিল।
পরীক্ষার ফলাফলঃ ১৯৬৭ সালে এ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথম বারের মত এস.এস.সি. পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সে বছর ৩৮ জন ছাত্র পাশ করে এবং দুজন দ্বিতীয় বিভাগ লাভ করে। ১৯৭৩ সালে এস.এস.সি. পরীক্ষায় মানবিক বিভাগের মেধা তালিকায় মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া তৃতীয় স্থান এবং সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১৭ তম স্থান অর্জন করেন।
কৃতি ছাত্রঃ এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করে বহু ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে দেশে-বিদেশে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছে। তাদের মধ্যে মোঃ আবদুল হান্নান (রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশের জাতিসংঘ স্থায়ি মিশন, স্যুাইজার ল্যান্ড) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড) আবদুল মান্নান ইলিয়াস (উপসচিব) অন্যতম।
আপনি এ প্রতিষ্ঠানটিকে লেখাপড়ার উত্তম প্রতিষ্ঠান মনে করলে কেন? এ প্রশ্নের জবাবে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল বিকাশ দত্ত বলেন- সুষ্ঠভাবে বিদ্যা অর্জেনের পরিবেশ রয়েছে বিধায় উক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে লেখাপড়ার উত্তম প্রতিষ্ঠান মনে করি।