আলোকিত মানুষ হাজী ইয়াকুব আলী ভূইয়া

আলোকিত মানুষ হাজী ইয়াকুব আলী ভূইয়া    


প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত তাঁজপাড়া গাঁয়ে জন্ম দিয়েও দক্ষতা, কর্মকুশলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতায় একজন ব্যক্বিত যে আলোকিত মানুষে পরিনত হতে পারেন কুমিল্লার মুরাদনগরের হায়দরাবাদের মরহুম হাজী মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া তার কস্টার্জিত সম্পদ তিনি অকাতরে দান করেছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মা। তার কল্যাণে তাই তিনি ইন্তেকাল করার পরও সকলের হৃদয়ে স্থায়ী আসন পেতে বসে আছেন।  
জন্ম ও পরিচয়ঃ তিনি ১৯০৬ সালে মুরাদনগরের হায়দরাবাদের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া। মাতার নাম পহরেন্নেসা। তার পিতা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। 
শিক্ষাঃ তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয় বা পাঠশালার সঙ্কট ছিল। এছাড়া লেখাপড়ার প্রতি জনসাধারন তেমন গুরুত্ব দিত না। তবে বালক ইয়াকুবের পিতা শিক্ষার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। তিনি ছেলেকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানে কার্পন্য করেন নি। 
কর্মজীবনে প্রবেশঃ তিনি দেবিদ্বার থানার গঙ্গামন্ডল পরগনার খাজনা আদায়ের কাজে নিয়োজিত হন। তখন তিনি ছগুড়া, চালবরপাড়া, গাদানগর, কালিকাপুর, হোসেনপুর, পিরোজপুর ও খয়রাবাদের জনগনের নিকট তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারে সুতার ডাইয়িং মিল পরিচালনা করেন। এছাড়া যমুনা তেলের এজেন্সির স্বত্বাধিকারী ছিলেন। কসবা থানার বাদুরেও তার ডাইং মিল ছিল। ১৯৫১ সালে তার জীবনে পরিবর্তন আসে। তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম চলে যান। 
চট্রগ্রাম গিয়ে জীবনের গোড় ঘুরে গেল। তিনি প্রথমে ক্যাসিকেল (এসিড) ব্যবসার সাথে জড়িত হন। সেই সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম এসিড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম ডিডি ফ্যাক্টরির সোল এজেন্ট ছিলেন। 
এছাড়া টিএসপির সোল এসেন্ট, কর্ণফুলি পেপার মিলের সোল এজেন্ট, মনির ক্যনমিলসেন্সের সোল এজেন্ট ও রানী মার্কা ঢেউ টিনের সোল এজেন্ট ও ক্যামিক্যাল ইমপর্টার ছিলেন। তিনি জাপান, কোরিয়া ও জার্মান থেকে ক্যামিকেল আমদানী করতেন। তিনি দি আজাদ কালার কোম্পানী, আজাদ ক্যামিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রি, ওসমানিয়া ট্যানারি, ও হোটেল হাওয়াই এর সাথে জড়িত ছিলেন। 
শিক্ষা বিস্তার ঃ তিনি অত্র এলাকার শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ১৯৫২ সালে আকবপুর হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় ৭০০ টাকা দান করেন। ১৯৭৯ সালে বিদ্যালয়টির উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখেন এবং তার নামে এর নামকরণ করা হয়। তিনি এককভাবে হায়দরাবাদে ইয়াকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এতে এলাকার ছাত্ররা বিশেষ করে ছাত্রীরা লেখাপড়ার সুযোগ পায়। তিনি ১৯৭২ সালে শ্রীকাইল কলেজে দশ হাজার টাকা দান করে দাতা সদস্য হিসেবে কলেজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এচাড়া তিনি পাঁচলাইশ বালিকা বিদ্যালয়ের ডোনার, বাইড়া আরিফ স্কুল এন্ড কলেজেও তিনি অর্থ দান করেছেন। 
ধর্মীয় শিক্ষা ঃ ধর্মীয় শিক্ষার  প্রসারে তিনি মাদ্রাসা স্থাপন করেছেন। তিনি ১৯৬৭-৬৮ সালে আকবপুর মোহাম্মদীয়া সিনিয়র মাদ্রাসা স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি পাহাড়পুর, খামারগাঁও, কোম্পানীগঞ্জ ও মুরাদনগর, মোজাফ্ফারুল উলুম মাদ্রাসায় তিনি আর্থিক সহযোগীতা করেন। 
স্বাস্থ্যঃ তিনি ১৯৬৫ সালে মায়ের নামে নিজ গ্রামে গড়ে তুলেন পহরেন্নেসা পল্লী স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র। এতে গরীব লোকেরা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পায়। তিনি চট্টগ্রাম শিশু হাসপাতালের আজীবন সদস্য, পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের মেম্বার এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম ডায়বেটিক হাসপাতালের ডোনাং ছিলেন। 
রাস্তাঘাট ঃ ইয়াকুব আলী ভূইয়া করইবাড়ি থেকে হায়দরাবাদ পর্যন্ত রাস্তা নির্মানে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে এ রাস্তা নির্মানের সময় জমির গালিকগন ১৭টি সমালোচনা করেন। তখন এমপি ছিলেন আজিজুর রহমান এবং এস, এস এ হারুনুর রশিদ। কুমিল্লা এসডিও ছিলেন ওসমান আলী। তাদের সহযোগীতায় আধা কিলোমিটার জায়গা পান এবং মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে তিনি হাজী ইয়াকুব আলী ভূইয়া সড়ক নির্মান করেন। এছাড়াও পরবর্তীতে রাস্তাটির উন্নয়নে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। এছাড়া বাদামতলী সিদ্দিগঞ্জ বাজার রাস্তা নির্মানে তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 
খেলাধুলা ঃ তিনি এলাকার ছেলে মেয়েদের খেলাধুলার সুবিধার্থে একটি মাঠের ব্যবস্থা করেন। হায়দরাবাদ মোসাম্মৎ আমেনা খাতুন মাঠের নামে তিনি ১৯৮৭ সালে ৯০ শতক জায়গা দান করেন। 
আর্তমানবতার সেবা ঃ ১৩৬০ বঙ্গাব্দে তিনি গরীব-দুঃখী মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন এবং বহু অর্থ ব্যয় করেন। ১৯৭৪ সালের বন্যার সময় ৬ মাস ধরে তার বাড়িতে খানার ব্যবস্থা করেন। এতে, প্রতিদিন ৫ মন ডাল ও চাল লাগত। এছাড়া ২১টি ইউনিয়নে অর্থ সাহায্য দেন। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় তিনি ১০০ কম্বল, আড়াই মন চিড়া ও ১ মন গুড় গরীবদের মধ্যে বন্টন করেন। সর্বশেষ ২০০২ সালের বন্যায় আন্দিকুট ইউনিয়নে ১টন চাল, শাড়ি, কাপড়, লুঙ্গি, ৩ টন গম, লবন, দিয়াশলাই, বিস্কুট, চিড়া, গুড় বিতরণ করেন।   
কৃষিঃ তিনি ১৯৮৬ সালে হায়দরাবাদে ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করে স্বল্পমূল্যে কৃষকদের পানির ব্যবস্থা করেন। কৃষকদের সুবিধার্থে ১৯৮৭ সালে জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে নিজ বাড়িতে এটাস্টেশন কোর্ট স্থাপন করেন। 
অর্থ ও বাণিজ্য ঃ তিনি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গতিশীলতা আনতে বিশেষ পদক্ষেপ নেন। এজন্য ১৯৮৬ সালে নিজ বাড়িতে কৃষি ব্যাংকের শাখা স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৬২ সালে হায়দরাবাদে ৩নং আন্টিকুট ইউনিয়নের কার্যালয় স্থাপন করেন। ১৯৭২ সালে ভূমি অফিস এবং ২০০২ সালে ডাকঘর স্থাপন করেন।  
ধর্মঃ তিনি ব্যক্তিগতভাবে ধার্মিক ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে পবিত্র হজ্জ্ব সম্পাদন করেন। আকবপুরে পাকা মসজিদ নির্মান করেন। চট্টগ্রামের জামেয়াতুল ফালাহ্ জামে মসজিদে এবং বাদামতলী জামে মসজিদ নির্মান ও পুননির্মানে বিশেষ অবদান রাখেন। এছাড়া হায়দরাবাদ আবুল খায়ের ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমান অর্থ প্রদান করেছেন। 
জাতীয় পর্যায় অবদানঃ তিনি স্বীয় প্রচেষ্টায় নাইট্রিক এসিড উৎপাদন করেছেন। ক্যামিস্ট হিসেবে ডিস্টিলওয়াটার, পিনাইন, ফসফরিক, সালফিউরিক, এসিড রিফাই করেছেন। তিনি ১৯৮৫ সালে গাজিপুর অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরীর বাংলাদেশ সেনা বাহিনী পক্ষ থেকে ১৩৫০ নাইট্রিক এসিড ডাইনোশন করে ১০০ পাত্তারে আনার জন্য গোল্ড সেডেল লাভ করেন। 
তিনি ১৪ আগস্ট ২০০৮ইং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ১০২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি ৩টি বিয়ে করেছিলেন। তার ১৭ জন ছেলেমেয়ে বর্তমানে স্ব স্ব কর্মস্থলে প্রতিষ্ঠিত। তিনি পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে কর্মজীবনে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি পাকিস্তান আমলে কুমিল্লা জজ কোর্টের জুড়ি বোর্ডের মেম্বার হওয়ার গৌরব লাভ করেছেন।  

বেকারী

কুমিল্লা শহর এবং বিভিন্ন উপজেলার অলিগলিতে নিয়ন্ত্রনহীনভাবে গড়ে উঠেছে বেকারি। এই সকল বেকারিতে বিস্কুট, চানাচুরসহ উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রীতে কেমিক্যালসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ভেজাল পদার্থে তৈরি খাদ্য সামগ্রী খেয়ে শিশুরাসহ, নারী-পুরুষ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে- অনুমোদনহীন এসব বেকারীতে পোড়া মবিল, ইউরিয়া সার, কেমিক্যালসহ নানা ধরনের বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহৃত হচ্ছে।  ভেজালের পরিমান দিন দিন বেড়েই চলছে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একরকম ব্যবসায়ী জানান- পোড়া মবিল, কেমিক্যাল ও বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে বেকারি পণ্য তৈরী করলে এগুলো দেখতে আকর্ষনীয় ও মচমচে থাকে। ফলে ক্রেতা সাধারণ বেশ পছন্দ করে। এতে লাভ ও বেশি, টাকায় ৮০ পয়সা লাভ। 
সরেজমিনে একটি বেকারীর ভেতর ঢুকতেই দেখা যায়, বাথরুমের পাশে আধাখোলা একটি ছোট কক্ষে বড় কড়াইয়ে বেকারী পণ্য ঢাকা হচ্ছে। শৌচাগার পাশে বলে আমরা যাওয়ার সময় জুতায় লেগে থাকা ময়লার আস্তর পড়ে থেকে একেবারে স্যাতস্যাতে হয়ে আছে। জানা গেছে প্রতিদিন সকালে এখানে তৈরি বন,বিস্কুট, টোস্টসহ বিভিন্ন পণ্য বিভিন্ন কনফেকশনারী চলে যাচ্ছে। এছাড়া ভ্যানে করে সূর্য উঠার সাথে সাথেই পৌছে দেয়া হয় মুদি দোকান, চা দোকানসহ অন্যান্য দোকানে।
বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে-বেকারি পণ্যে চিনির বিকল্প হিসেবে কমস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও খাবারে ব্যবহার নিষিদ্ধ কিছু সোডিয়াম সাইক্লোমেট ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্যে সুগন্ধি হিসেবে যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে সেগুলোর বোতলে কোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেয়াদকাল বা কী কী উপাদানে তৈরি এর উল্লেখ নেই। সুগন্ধীর নাম বা উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কে বেকারী মালিকদের কোন ধারনা নেই। কোন কোন বেকারীতে পণ্য তৈরীতে ময়দার সঙ্গে হাইড্রোজ ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। 
ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার আগে স্বাস্থ্যসম্মত কারখানা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সেনিটারী ইন্সপেক্টর দ্বারা পরিদর্শন ও শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ঐ সকল বেকারি মালিকদের নিকট থেকে নির্ধারিত হারে মাসে ভাড়া পেয়ে থাকে। একারণে বিষাক্ত খাদ্য সামগ্রী বস্তিসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কিংবা ড্রেনের পাশে নোংরা পরিবেশে উৎপাদিত হচ্ছে বছরের পর বছর। 
এই সকল বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী খেলে দ্রুত কিডনি লিভার সহ অঙ্গ-পতঙ্গ নষ্ট এবং মরণব্যাধি ক্যান্সার হওয়ার আশংকা ৯৯ ভাগ বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন হতে প্রকাশ করেন। কুমেক হাসপাতালের জনৈক কিডনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলেন-ক্যামিকেল ও বিষাক্ত পদার্থ সংমিশ্রনে তৈরি খাবার শুধু শিশুদের নয় সকল বয়সী নারী-পুরুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকী বেশি। 


হারবাল চিকিৎসা

বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসার জন্য এলোপ্যাথিক এবং হোমিওপ্যথিক বাদেও ইউনানী বা কবিরাজীর উপরও নির্ভর করেন। হারবাল বা গাছ-গাছরার মাধ্যমে চিকিৎসার উপযোগিতা আধুনিক যুগেও রয়েছে। তবে সে চিকিৎসা যদি বিজ্ঞান সম্মত হয়। কিন্তু কুমিল্লায় হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা চলছে।  
হারবাল কোম্পানীর আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপনে প্রতিনিয়ত সহজ-সরল মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। বিশেষ করে যৌন রোগীরা বিশেষভাবে প্রতারিত হচ্ছে। এসব ভন্ড চিকিৎসকদের চাহিদা মেটাতে এমন কি জমি-জিরাতও হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। গান-বাজনা করে মজমা বসিয়ে, মাইক বাজিয়ে, পত্রিকায় বড় বড় বিজ্ঞাপন দিয়ে। বাসে বা অন্যান্য যানবাহনে পোস্টার বা স্টিকার লাগিয়ে অথবা হ্যান্ডবিল বিলি করে প্রত্যাশিত ব্যক্তিদের হস্তগত করছে। আর যিনি একবার তাদের খপ্পরে পড়েছেন তার সর্বনাশ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তার নেই। 
কুমিল্লায় ঠিক কতগুলো হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে তার ঠিক পরিসংখ্যান সরকারি-বেসরকারি কোন দপ্তর নেই। তবে কুমিল্লা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় ৫০/৬০টির কম হবে না। এছাড়াও কিছু দিন পর পর নতুন প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠতে দেখা যায়। 
এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে একজন হাকিম থাকেন। তিনি নিজেকে সর্ব রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলে দাবী করেন। বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী এমবিবিএস এর নিচে কোন চিকিৎসক নিজেকে ডাক্তার দাবী করতে পারেন না। অথচ এই সব কবিরাজ নামের পূর্বে বড় অক্ষরে ডাক্তার শব্দটি লিখে রোগীদের আকৃষ্ট করেন। একজন হাকিম এক সাথে অর্ধ শতাধিক রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। 
যেখানে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোন গ্যারান্টি নেই সেখানে এসব ভূয়া কবিরাজগণ গ্যারান্টি সহকারে চিকিৎসা দেন। শুধু তাই নয়, বিধানে মূল্য ফেরৎ দেয়ার ওয়াদা করেন। তবে এ পর্যন্ত কেউ মূল্য ফেরৎ পান নি বলে জানান। ভূক্তভোগী জামাল হোসেন বলেন ঔষধে কোন কাজ হয় নি? জিজ্ঞেস করলে তারা বলে ঔষধ কি আছে; হয়তো খেতে ভূল করেছেন। নয়তো আপনাকে যেসব খাদ্য খেতে নিষেধ করা হয়েছিল হয়তো সেগুলো খেয়েছেন,(্্্ঔষধ চলাকালে  অনেক গুলো খাবার খেতে নিষেধ করা হয়) তাই কাজ হয় নি। অনেক হারবাল কোম্পানী আছে যারা পএিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ডাকযোগে চিকিৎসা দিয়ে থাকে। নিদিষ্ট পরিমান  টাকা পাঠালেই তারা ঔষধ পৌছে দেবার প্রতিশ্র“তি দেয়। অনেক সময় ডাকযোগে টাকা পাঠিয়েও ঔষধ পাননি বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন । খোঁঁজ নিয়ে জানা গেছে এদের ব্যবসা করার ট্রেড লাইন্সেস ছাড়া আর কোন অনুমোদন নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাদের কোন অনুমোদন নেই মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমান আদালত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা নিলেও কিচুদিন পর আবার তারা প্রতারনা শুরু করে। 
  
বাংলার শিল্পের অতীত ঐতিহ্য

বাংলার কৃষকদের অতীত গৌরবের কথা আমরা শুনেছি। গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু ও পুকুর ভরা গাছের কথা ও আমরা জানি। আজ আমরা জানব আমাদের হারিয়া যাওয়া শিল্পের কথা। আমরা শুধু কৃষিতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পের ছিলাম না। আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় শিল্প সামগ্রী ও উৎপাদন করতাম। বাংলার প্রতিটি জনপদে ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎশিল্প ছিল। এখানকার উৎপাদিত পণ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। কিন্তু বৃটিশ শাসনের বিভিন্ন দেশে এসব শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়।    

বর্তমানে আমাদের রপ্তানি খাতের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ পোশাকের শুধুমাত্র তৈরির খরচটাই আমরা পাই। অথচ এক সময় আমাদের সুতা থেকে তৈরি পোশাক জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রসিদ্ধ গ্রীসে রপ্তানি হতো। এ প্রসঙ্গে ইয়েটস আর টেসিট্রি নাম এন্টিপোরাম গ্রন্থে লিখেছেন “খ্রিষ্টের জন্মের দুইশত বছর পূর্বে ভারতের কার্পাস বস্ত্র গ্রীস দেশে বিক্রি হতো।” 
প্রাচীনকাল থেকেই মসলিন তৈরি হতো। তবে মোগল আমলে এ শিল্প পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। এগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। যথাঃ কদুনা রং, সরকার আলী, খাসা, শবনম, আবরোচন, সরবতি ইত্যাদি।   
বৃটিশ শাসকগন সম্মিলিনের উৎপাদন হ্রাস করার চেষ্টা করে। এ উদ্দেশ্যে ১৮০১ সালে টাকাই উপর শতকরা ৫ টাকা শুল্ক ধার্য করে। 
শুধুমাত্র টাকা নয় অন্যান্য এলাকার মসলিনে কন্ঠ রোধ করা হয়। এর ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরা ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ ও বাজিতপুরের মসলিন।   
এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় রেশমের বস্ত্র হতো। পাবনা জেলার মুসলিমপুর, গেওরা ও পাবনাতে উন্নতমানের শিল্পের কাপড় তৈরী হতো। বাংলাদেশে বর্তমানে কাগজ আমদানী করা হয়। এ সময় এ দেশে প্রচুর পরিমানে কাগজ তৈরি হতো। ঢাকা আরিয়াল গ্রামে হরিদ্রা বর্ণের এক প্রকার পুরু কাগজ প্রস্তুত হতো। এখানকার ৫০০টি পরিবার শুধু কাগজ প্রস্তুত করে জীবিকা নির্বাহ করতো। বন্ধরের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্প ছিল। কাগজ ১৮৭২ সালে ভাগরী পানিয়ালা ঘাট, দুর্গাপুর, বালাকা নদী ও কোম্পানীতে ২৩০টি কারখানা ছিল। চার রিম কাগজ তৈরি করতে খরচ পড়ত ৭ আনা কারিগররা মাসে ৫ টাকা হতে ৮ টাকা পর্যন্ত াতুকিাুকিাতকুা মি. তিাকতুকি উল্লেখ করেছেন এ কাগজ তৈরী হতে থাকে। তবে মেশিনে তৈরী কাগজের সাথে এ কাগজ প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। 
লোহা, লবণ ও চিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত হতো। ঢাকার পার্শ্ববর্তী ভাওয়াল পরগনার লোহাইল, মির্জাপুর, কীর্তনীয়া প্রভৃতি স্থানে লোহার কারখানা ছিল। ঐ লোহা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র তৈরী করা হতো। দতুকিাদতুকিাতদুকাতদুকিাদতুকি াতকুদিাুািুািুািুাি বঙ্গের লোহার খনির কথা উল্লেখ করেছেন। 
দেশীয় প্রযুক্তিতে এদেশের লবণ শিল্পীরা লবণ উৎপাদন করত। এ লবণেই তাদের সারা বছরের চাহিদা মিটতো। বিশেষ করে নোয়াখালী ও টট্টগ্রাম অঞ্চলে লবণ প্রস্তুত হতো। বৃটিশ আমলে লিভারপুলের লবণ আসায় দেশীয় লবণ শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 
এক হিসেবে বাংলার দেখা যায় চট্টগ্রামে ১৮৬৫-৬৬ খ্রিষ্টাব্দে লিভারপুল হতে ১২৪৬ টন, ১৮৭০-৭১ খ্রিষ্টাব্দে ৩২৫৫ টন ১৮৭৩-৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ৭৭৫২ টন লবন আমদানি করা? ফলে দেশীয় লবন চাষীরা ধীরে ধীরে বেকার হয়ে পড়ে তারা কৃষি শ্রমিকে পরিণত হয়।
গুড় এবং চিনি তৈরী হতো ইক্ষু ও খেজুরের রস হতে। তৎকালীন সময়ে বাখরগঞ্জ(বরিশাল) নোয়াখালী, চট্রগ্রাম, ত্রিপুরা ও অন্যান্য স্থানে প্রচুর পরিমানে ইক্ষু ও খেজুরের রস উৎপাদিত হতো। এসব সাথে গুড় ও চিনি তৈরি হতো।
এছাড়া ফরিদপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ এই তিনটি জেলা মাটির বাসনের জন্য বিখ্যাত ছিল। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুরে বাসনের দ্রব্য তৈরি হতো। বর্তমানে এসব শিল্প বিলুপ্ত প্রায় কোন কোন স্থানে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বৃটিশ সরকার কৌশলে অথবা আইন জারি করে কুটির শিল্পগুলো ধ্বংস করেছে। এখনও আমাদের দেশে অনেক কুটির শিল্প রয়েছে এগুলোর ধ্বংসের পথে সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি করা দ্রব্যগুলো অত্যাধুনিক মেশিনে তৈরি দ্রব্যের মতো আকর্ষনীয় নয়। ফলে কুটির শিল্প বিলুপ্তির পথে। 
এখন মোঘল ইংরেজ কিংবা পাকিস্তানী শাসন নেই। আমরা ইচ্ছে করলেই আমাদের হারানো শিল্প ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারি। এতে লক্ষ লক্ষ লোকের  


গর্ভবতী মা ও শিশু

ইটালীর রাষ্ট্রনায়ক বেনিটো মুসোলিনী বলেছেন, ডধৎ রং ঃড় ধ সধহ যিধঃ সধঃবৎহরঃু রং ঃড় ধ ড়িসধহ. সত্যিই তাই। পুরুষের বীরত্ব যেমন যুদ্ধের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তেমনি নারীদের নারীত্ব স্বার্থক হয় মাতৃত্বে। আজকের মেয়ে আগামী দিনের মা। তাই যারা নতুন করে মা হতে যাচ্ছে। তাদের মাতৃত্ব সংক্রান্ত ধারনা ক্লিয়ারভাবে থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুরী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ও নতুন মাতার সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। 
সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে এবং সৃষ্টির অমোঘ নিয়মে মানব শিশু জন্ম লাভ করে ৮/৯ বৎসর বয়সেই এই শিশুটির দৈহিক পরিবর্তন শুরু হয়; কন্যা শিশুটি সময়ের বিবর্তনে পরিনত হয় কুমারিতে। এক সময় লাল শাড়ী পরে লম্বা ঘোমটা দিয়ে চলে যায় নতুন ঠিকানায়। সেখানে মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ থাকে না। শুধুমাত্র একজনকেই বলতে পারে মনের কথা কম বয়সী মেয়েরা এ সময় খুবই আন-ইজি ফিল করে; কেননা মাতৃত্ব সম্পর্কে তার পুরোপুরি ধারনা থাকে না। এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলতেও পারে না, ব্যাথায় বুক ফাটলেও মুখ ফুটে না। 
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ১৮ বৎসর বয়সের আগে মেয়েদের বিবাহ নিষিদ্ধ। কেননা; এর আগে মেয়েরা শারিরীক ও মানসিক দিক দিয়ে সন্তান ধারনের উপযুক্ত হয় না। এর আগে সন্তান গর্ভে আসলে সন্তান নিলেও অনেক সময় সিজারের প্রয়োজন হয়। 
আমাদের সাধারনত বলা হয় একজন মা ১০ মাস ১০ দিন একজন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে না। কিন্তু ডাক্তারী হিসেব মতে এ সময়কাল ২৮০ দিন বা ৪০ সপ্তাহ বা ৯ মাস ১০ দিন। গর্ভে ভ্রুন নিষিক্ত হবার পর সন্তানটিচ ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে। 
‘দি নিউ প্র্যাগনেন্সী এন্ড চাইল্ড বার্থ’ গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, নর-নারীর দৈহিক সঙ্গমের পর ভ্যাজিনাতে পুরুষের লক্ষ লক্ষ স্পার্ম এর সংকলন ঘটে। এদের একটি মাত্র স্পার্ম ফেলোপিয়ান টিউবের পথ ধরে এগিয়ে আসে এবং অসংখ্য ডিম্বানুর মধ্যে একটি ভাগ্যবসান বা ভাগ্যবর্তী ডিম্বানুকে নিষিক্ত করে। নিষিক্ত হাবার পর এই রক্তপিন্ডটি  ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথম মাসের শেষ দিকে এটি ওমর এ গিয়ে পৌঁছে। এ সময় প্রসূতির রুচির পরিবর্তন হয়। 
পঞ্চম থেকে অষ্টম মাসের মধ্যে প্রসূতির ব্রেস্ট দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পারে, “ভ্যাজিনার রং পাল্টে যেতে পারে এবং শরীর দুর্বল লাগতে পারে। চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভবর্তী মা একবার ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং এ সময়ে আরেকবার যাবেন। 
এ সময় শিশুর চোখ ও কান গঠিত হয়ে থাকে। তার মুখ মানব আকৃতি নেয় এবং শিশুটি ২.৫ সেন্টিমিটার বা এক ইঞ্চি লম্বা হয়। দ্বাদশ সপ্তাহে মা আবারো ডাক্তারের কাছে যাবেন কারন তখন তিনি আগের তুলনায় বেশী অস্বস্থীবোধ করতে পারেন। এ সময় শিশু একটি বেশী নড়াচড়া করে থাকে। 
ত্রয়োদশ-ষোড়শ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ে একবার চেকআপ করানো প্রয়োজন। এ সময় ওমর বৃদ্ধি পেতে থাকে তলপেটের মধ্যাংশে একটি কালো দাগ দেখা যায় এবং ব্রেস্ট এর স্ফীতি ও নিপলের চারদিকটা কালো হয়ে যায়। 
সপ্তাদশ থেকে অষ্টাবিংশ সপ্তাহ পর্যন্ত দু’বার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। এ সময় শিশু পেটে লথি মারে, হাত মুঠো করে ও আঙ্গুল চোষে। শিশুর নড়াচড়া বাইরে থেকেও টের পাওয়া যায়। ৮ম মাসে দু’বার এবং পরবর্তীতে প্রতি সপ্তাহে একবার গর্ভবর্তীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। 
আমাদের দেশের অধিকাংশ ফ্যামিলিতেই গর্ভবর্তী মাতাকে নিয়মিতভাদবে ডাক্তারের কাছে নেয়া হয় না। ফলেণ তারা নানবিধ সমস্যা সম্মুখীন হয়। নিজের অসুবিধার কথা অন্য কাউকেতো বলেনেই না এমনকি স্বামী বেচারাকেও জানতে দেন না। ফলে প্রসব জটিল হয়ে থাকে। 
উন্নত বিশ্বে ১৫ বৎসর থেকে ৪৯ বৎসর বয়স পর্যন্ত নারীরা নিয়মিত তাদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখে। ফলে তারা প্রসব সংক্রান্ত কোন সমস্যা ফিল করেন না। কিন্তু আমাদের দেশে শহরাঞ্চলে এ প্রবণতা কিছুটা লক্ষ করা গেলেও গ্রামাঞ্চলে নেই বল্লেও চলে। যতক্ষণ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন রোগীকে নিয়েও জনসাধারণ মাথা ঘামান না। 
ডি.এইচ.এস হু এবং ইউনিসেফ (১৯৯০-৯৯) এক জরিপ অনুযায়ী ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী যে সব মহিলা অন্তত ১ বার দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা লাভ করেছে শতকরা হার হচ্ছে নিম্নরূপ ঃ  
ক্রমিক নং দেশের নাম সংখ্যা ক্রমিক নং দেশের নাম সংখ্যা
মাছ ২৩ কম্বোডিয়া ৩৪
নেপাল ২৪ ইয়ামেন ৩৪
মালি ২৫ ভারত ৪৯
বাংলাদেশ ২৬ মরকেকা ৪২
পাকিস্তান ২৬ ১০ তাঞ্জিনিয়া ৫০
প্রেগনেন্ট হওয়ার পূর্বে একজন মহিলার দৈনিক ২২০০ ক্যালরী খাদ্যের প্রয়োজন। গর্ভবর্তী হওয়ার পর তা ২৫০০ এবং প্রসবোত্তরকালে প্রয়োজন ২৯০০ ক্যালরী। গর্ভবর্তী একজন মহিলা প্রতিদিন ৫০০ গ্রাম শর্করা (ভাতা/আটা/আলু), আমিষ (মাছ/মাংস/ ডাল)Ñ ৫৫ গ্রাম, ফ্যাট (৩ল/ঘি/মাখন) ৭০ গ্রাম সবুজ শাক-সব্জি ১২৫ গ্রাম, অন্যান্য সব্জি ১৫০ গ্রাম এবং ফলমূল ৬০ গ্রাম খেতে পারেন। তাহলে কাস্তিখত পরিমান খাদ্যেপাদান পাওয়া যাবে। 
আমাদের দেশে এসব মহিলাদেরকে জোড় কলা খেতে দেয়া হয় না। জময সন্তান হওয়ার ভয়ে চাল কুমড়া খেলে দেয়া হয় না সন্তানের গায়ে চালকুমড়ার মত লোম দেখা দেবার ভয়ে, বাইন মাছ খেলে নাকি সন্তান পেটের ভেতর বাইন মাছের মত নড়াচড়া করবে। তাছাড়া অধিক খেতে দেয়া হয় না; কারণ বেশী খেলে পেটের সন্তান পরিপুষ্ট হবে ফলে প্রসবের সময় কষ্ট পাবে। আসলে এ সবই ভুল ধারনা। এদের পেছনে কোন যুক্তি নেই। 
বিভিন্ন জরিপে দেখা দেছে যে, দরিদ্র এবং পুষ্টিহীন মায়েরা যে সন্তান জন্ম দেয় তাদের ওজন কম হয় এবং বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়। অপুষ্ট শিশু অতি সহজেই রোগাক্রান্ত হয়। মায়ের স্বাস্থ্য যদি ভাল থাকে তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ না করেও সঠিক ওজনের শিশু জন্ম দেয়া সম্ভব। 
কিন্তু মা যদি গর্ভবতী থাকাকালীন সময়ে যথেষ্ট স্বাস্থ্য না থাকেন অথবা নিজের বাড়ন্ত বয়সের দরুন নি জের বাড়তি চাহিদা পূরণে অক্ষম থাকেন। অথবা গর্ভাবস্থায় উপযুক্ত খাদ্যোপাচ্ছেন না পেলে তিনি শিশুকে যথাযথ পরিমাণ পুষ্টি দিতে পারেন না। ফলে তার উদরস্থ শিশুটি হয় কম ওজনের অপরিনত ও অপরিপূরক, মস্তিষ্ক নিয়ে সে জন্ম গ্রহণ করে। 
আমাদের দেশের শতকরা ৯০% ডেলিভারী বাড়িতেই হয়ে থাকে। মূলত বাড়ীতে ডেলিভারী হওয়া খারাপ নয়। তবে; অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রসবের কাজ করা খুবই খারাপ। এতে মায়ের জীবনের উপর হুমকী আসতে পারে। মাতা ও শিশু দু’জনের চোখ থেকেই পৃথিবীর আলো মুছে যেতে পারে। তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শিক্ষিত দাই দিয়ে প্রসব করানো যেতে পারে। 
তবে প্রসবপূর্বকালে কয়েকটি সমস্যা দেখা দিলে কখনো বাড়ীতে রিস্ক নেয়া ঠিক হবে না। এগুলো হচ্ছে ১। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে পা ফুলে যাওয়া ২। এই সময়ে পেটের উপরিভাগে অত্যন্ত ব্যাথা হওয়া ও বমি বমিভাব হওয়া ৩। মাথার যন্ত্রনা হওয়া ৪। চোখে ঝাপসা দেখা ৫। ভ্যাজিনা পথে পানি বা রক্তক্ষণ হওয়া ইত্যাদি। এসব উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে কালবিলম্ব না করে মাতৃসদনে নিয়ে যাওয়া উচিত। 
প্রসবোত্তরকালে মায়ে এবং শিশুর পরিচর্যা এবং খাদ্যের উপর বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়। ৩-৪ মাস পর্যন্ত ৩ ঘন্টা পর পর অর্থ্যাৎ সকাল ৬টা, দুপুর ১২টা, বিকাল ৩ টা, সন্ধ্যা ৬ টাকা, রাত্রি ৯টা এবং মধ্য রাত্রিতে একবার খাওয়াতে পারেন। এ সময় সুজি, পাকা কলা, আমের রস, ও ডিম দেয়া যেতে পারে। 
আমরা অনেকেই গৃহপালিত জন্তু গরু, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি পালন করি। এ প্রাণীগুলো যখন গর্ভবতী হয় তখন এদের বিশেষ যত্ম নেয়া হয়। সেবা-শুশ্র“ষা ও খাওয়া-দাওয়া করানোর জন্য আলাদা লোক রাখা হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, আমাদের মায়েরা যখন বিশেষত্বতো দূরের অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদেরকে এ রীতি পাল্টাতে হবে। গর্ভাবতী মা ও শিশুর যত্ম নিতে হবে। 


পীর বাদশাহ মিয়ার কথা  

অনেকের ধারনা বাংলাদেশের পীর-মাশায়েখগণ রাজনীতি থেকে দূরে অবস্থান করে শুধুমাত্র ইবাদত বন্দেগীতে ব্যস্ত আছেন এবং অতীতেও এমনটি করেছেন। অধিকাংশ পীর-সাহেবদের ক্ষেত্রে কথাটি সঠিক হলেও দু একজন ছিলেন ব্যতিক্রম। এরা আল্লাহর হক আদায়ের পাশাপাশি বান্দার হক আদায় করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। পতিতা উচ্ছেদ আন্দোলনে অংশগ্রহন করেছেন কারাবরণ করলেও পিছপা হননি। এমনই একজন পীর ছিলেন পীর বাদশা মিয়া।
হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশাধর পীর বাদশা মিয়া ১৮৮৪ সালের ২২শে মাদারীপুরের বাহাদুরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাদের বাসস্থানে প্রতিষ্ঠিত ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মুহসনিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মুহসনিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করেন। জামাতে উলায় পড়ার ক্ষমতা তার পিতা হযরত মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমদ মারা গেলে তিনি আর লেখাপড়া করেন নি। ১৯০৭ সালে তিনি ঢাকার নবাব কুটিরের সুপ্রসিদ্ধ মৌলভি থাকা রাছুল। বখশ এর ৩য় কন্যা মোসাম্মৎ ছালেহা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
১৯০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ বাহাদুর। বগুড়ার নবাব আলী বাহাদুর সহ অন্যান্য মুসলিম নেতৃবৃন্দ ঢাকার শাহবাগে অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশনাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। বাদশা মিয়া এ সম্মেলনে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। 
১৯০৬ সালে নবাব স্যার সলিমুল্লার উদ্যোগে মুসলিম লীগ গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। দল প্রতিষ্ঠায় পর তিনি ১৯০৭ সালে ঢাকায় তার মুরিদদের নিয়ে বিরাট কনফারেন্স করেন। ১৯২১ সালে তিনি খেলাফত আন্দোলনের সাথে জড়িত হোন। ইংরেজ সরকার তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করে। তিনি বৎসর কারাভোগ করেন।
তাকে গ্রেপ্তার করে নেয়ার পর মাদারীপুর এসডিওর বাসায় বুঝানো হয়। এসডিও তাকে রাজনীতির সাথে জড়িত না থেকে আল্লাহর এবাদত বন্দেগীতে মুশগল থাকায় পরামর্শ দেন। বাদশা মিয়া মনে করতেন রাজনীতির সঙ্গে ইসলামের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বরং এটা ইসলামের একটি শক্তিশালী অঙ্গ। ঈমান-আকীদা, এবাদত রাজনীতি অর্থনীতি ও সমাজনীতি প্রভৃতির সমষ্টির নাম ইসলামী রাজনীতি। 
১৫ আগষ্ট ১৯২২ তিনি কারাগারে থেকে মুক্তিপান। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সোজা কলকাতা খেলাফত অফিসে চলে যান। সেখানে তৎকালীন ইসলামী আন্দোলনকারীদের সাথে সাক্ষাত হয়। 
১৯২৪ সালে তিনি ১২’শ হজ্জ যাত্রী নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হন। সৌদি আরবে পৌঁছলে বাদশাহর দূত তাকে আহলান সাহলান বলে স্বাগতম জানায়। ১৯২৪ সালের ১১ জুলাই হজ্জ সমাপন শেষে বাদশা পীর সাহেনকে তার গাড়িতে করে জেদ্দায় পৌছেছেন। 
১৯৩৬ সালে শেরে বাংলা মৌলভী আবুল কাশেম ফজলুল কত হকের নেতৃত্বে কৃষক প্রজা পাটি গঠিত হয়। তিনি এ পার্টির পৃষ্ঠপোষক পদে অধিষ্ঠিত হন। তৎকালীন সময়ে হিন্দু-মুসলিম দাঁঙ্গা শুরু হলে তিনি দাঁঙ্গা প্রশমনে ভূমিকা রাখেন। কলকাতা, ঢাকা ও নোয়াখালীতে এ দাঁঙ্গায় ২৫-৩০ হাজার লোক মারা যায়।
বাহাদুরপুর শরীতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা পীর বাদশাহ মিঞা একটি আর কীর্তি। ১৩৩৭ সালের ১লা ভাদ্র তার বাসভবনে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতার নামানুসারে উচ্চ কওমী মাদ্রাসা হিসাবে এটি স্থাপিত হয়। ১৯৪৫ সালে মাদ্রাসাটির কাজ পুনরায় আরম্ভ করা হয় এবং বর্তমানে এ মাদ্রাসা হতে প্রতিবছর বহু আলেমদের হয়ে দেশ বিদেশের খেদমত করছেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হয় এবং মুসলিম লীগ সরকার গঠন করে। বাদশা মিঞা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পতিপালক উচ্ছেদের দাবী জানান। কিন্তু মুসলিম লীগ পতি পুনর্বাসন সমস্যার কথা বলে এ ব্যাপারে কালক্ষেপন করতে থাকে।
১৯৫০ সালে চাঁদপুর পুরানবাজারে ঈদে মিলাদুন্নবীর সম্মেলনে যোগদান কালে কয়েকজন মহিলা লিখিতভাবে পতিতালায় উচ্ছেদের অবরোধ জানান। তিনি জুম্মার নামাজের পর মুসল্লীদের পতিতালায় উচ্ছেদের নির্দেশ দিলে ৭৫০ জন পতিতা উচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে অনেকেই তওবা পড়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সঠিকভাবে জীবন যাপন করে। 
১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সম্পাদক রসূল (সাঃ) সম্পর্কে কটাক্ষ করলে তিনি সে উক্তির প্রতিবাদ জানান। ১৯৫৮ সালে নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে সুন্নাহ বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিষোধঘার করেন। তিনি ঘোষনা করেন “যদিও আমি গত বছর বয়সের বৃদ্ধ কিন্তু রসূল (সাঃ) এর সুন্নাহর সম্পাদক রক্ষার্থে আমি একজন তরুন নওজোয়ান। সুন্নাহর সমাধান বজায় রাখতে আমি আমার জানমাল উৎসব করতে প্রস্তুত। তিনি ১৯৫৯ খৃষ্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। 


কিশোরগঞ্জ, 

ভাটি কন্যা কিশোরগঞ্জ, হাওর-বাওড়ের দেশ কিশোরগঞ্জ, শিল্পাচার্য জয়নুলের দেশ কিশোরগঞ্জ। চলুন হ দিন সময় হাতে নিয়ে সবুজ শ্যামলিমায় ভরা সুন্দর দেশ কিশোরগঞ্জ। কিশোরগঞ্জ বেড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়।
যেভাবে যাবেনঃ সড়ক পথে গেলে ঢাকার মহাখালী চলে আসুন। এছাড়া রেল গাড়ীতে চড়ে যেতে ইচ্ছুক হলে কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে সকাল ১০ টায় এগারসিন্ধুর ট্রেনে চেপে বসুন। ঢাকা থেকে দূরত্ব ১৩৫ কিলোমিটার। 
যেভাবে থাকবেনঃ সড়ক পথে গেলে ঢাকার মহাখালী চলে আসুন। এছাড়া রেল গাড়ীতে চড়ে যেতে ইচ্ছুক হলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ১০টায় এগার সিন্ধুর ট্রেনে চেপে বসুন। ঢাকা তেকে দূরত্ব ১৩৫ কিলোমিটার। 

যেখানে থাকবেন ঃ হোটেল মোবারক (স্টেশন রোড) হোটেল ঈশা খা (ঈশা খা সড়ক) কিংবা হোটেল ডিউটে উঠুন। 

দর্শনীয় স্থানঃ (১) মসজিদ (কুতুবশাহী) ঃ অর্ধগ্রামে ষষ্ঠদশ শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত এই মসজিদটি একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। এটি বাইরের দিকে ৪৫ দ্ধ ২৫ ফুট এবং ভেতরের দিকে ৩৬ দ্ধ ১৬ ফুট। মিনার আছে ৪টি। এছাড়া ৫টি গম্বুজ রয়েছে। 

এছাড়া নান্দাইলের মোয়াজ্জেমপুর মসজিদ দেখুন। এ সমজিদের প্রতিষ্ঠাতা আব্দাল খা। এটি তারকা দ্বারা সৌন্দর্যমন্ডিত করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা শহরেই দেখবেন শহীদী মসজিদ। এছাড়া হযরত নগরের বিখ্যাত পাগলা মসজিদটিও দেখতে ভুলবেন না। 

(২) ঈদগাহ (শোলাকিয়া) ঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ একবার ঈদের নামাজে সোয়া লাখ লোক নামাজ পড়েছিল। তাই এর নাম হয়েছে শোলাকিয়া। ঈদগাহ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
(৩) ঐতিহাসিক স্থান (এগার সিন্ধুর) ঃ এখানে বাংলার বার ভূইয়ার নেতা ঈসা খানের সঙ্গে মুঘল সেনাপতি মানসিংয়ের যুদ্ধ হয়েছিল। এখানকার মসজিদ, দূর্গ, শিলালিপি দেখে ইতিহাসের কথা স্মরণ করবেন।
(৪) সেতু(জোড়া সেতু) ঃ ভৈরবে দেখুন মেঘনা নদীর উপর  জোড়া সেতু। রেল সেতুটি বৃটিশ শাসনামলের অন্যটি সম্প্রতি তৈরী করা হয়েছে। 
(৫) মাজার (শাহ মুহাম্মদ রুমি) ঃ কিশোরগঞ্জের তারাইলের মদনপুরে বিশিষ্ট ইসলামি প্রচারক শাহ সুলতান রুমির মাজার জিয়ারত করুন। ১২০ জন শিষ্য নিয়ে তিনি এখানে ইসলাম প্রচার করেন। 
(৬) মঠ(সতীদাহ মঠ) ঃ ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হলে এখানকার তালুকদার বাড়ির এক বিখ্যাত লোকের মৃত্যু হলে তার স্ত্রীকে শাহ করা হয়। এ নিয়ে প্রথম সতিদাহ মামলা হয়। মায়ের স্মৃতিকে রক্ষা করার জন্য তার ছেলে মায়ের চিতায় তৈরী করেন জ্ঞানদা সুন্দরী মঠ। 
ফিরে আসার সময় ঐতিহাসিক ভাদলবাড়িতে যেতে পারেন। সেখানকার লোকদের সুখে শুনবেন কেল্লা তাজপুরের সখিনার কথা। 





শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.