জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ ------ মমিনুল ইসলাম মোল্লা,

জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ
 মমিনুল ইসলাম মোল্লা, 


জাতিসংঘের  সর্বোচ্চ মিশন হচ্ছে শান্তি মিশন। মূলতঃ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বব্যাপী শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেয়ার জন্য। একটি যুদ্ধহীন বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষে এখনও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আলাপ - আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে সেখানে শানিতরক্ষী বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। এ বাহিনীতে ১১৫ টি দেশের অংশগ্রহণ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সৈন্য সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ৯০ এর দশক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ এ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখছে। ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধে পর্যবেক্ষক পাঠানোর মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু। ১৯৯০ সালে প্রথমে বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভারতেকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে। এ প্রসঙ্গে  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দিপুমনি বলেন- বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের ১০ শতাংশ বাংলাদেশের। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৩ সালের এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত ২৮ মাসের মধ্যে ২০ মাসই বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। জাতিসংঘ কর্তৃক এ পর্যন্ত মিশন পরিচালিত হয়েছে ৬৩টি। এক জরিপে দেখা যায়, ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৩০টি শান্তি মিশনে বাংলাদেশের ৮৯ হাজার ৫৬৭ জন সদস্য সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের ৬৫ বছরের ইতিহাসে নিহত হয়েছে ৩১০০ জন । সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১০ জন সদস্য এ পর্যন্ত শান্তি মিশনে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০৬ জন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ডঃ একে আব্দুল মোমেন বিবিসিকে বলেন, ২০১১ সালে সর্বমোট প্রায় ৭৫ জন শান্তিরক্ষী এবং তার সাথে ৩৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন মিশনে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ৭ জন সদস্য রয়েছেন। 
বাংলাদেশের সৈনিকগণ যেসব দেশে কাজ করেছেন সেগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার অশান্ত দেশ সিয়েরালিয়ন অন্যতম। তাঁরা সেখানকার মানুষদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে বাংলা ভাষাকে সেখানকার দ্বিতীয়  রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে। সেখানকার কয়েকটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে। এমনিভাবে লাইবেরিয়াতেও বাঙ্গালী সৈনিকরা বিশেষ অবদান রেখেছেন। সেখানকার জাতিসংঘ মিশনে (অনামিল ) মোতায়েনরত বাংলাদেশ সেনাবহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কন্টিনজেন্টকে লাইবেরিয়ান সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানীর প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত ৮ বছর ধরে সেখানকার শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশী সৈনিকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করছেন। শুধুমাত্র শান্তি রক্ষাই নয় বাংলাদেশী সদস্যদের সেদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত করার দাবী উঠেছে। কয়েকটি দেশ বাংলাদেশী কৃষি শ্রমিক নিতে আগ্রহী। বাংলাদেশী ঢেকি এখন আফ্রিকার বিভিন্ন  দেশে ধান ভানছে। বাংলাদেশী লাউ এখন বিভিন্ন দেশের মাচায় মাচায়  বাতাসে দোল খাচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে জাতিসংঘ মিশন থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ৯০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ রক্ষী দিবস ২০১২ উপলক্ষে কোয়ালিশন অব লোকাল এনজিওস বাংলাদেশ  (সিএলএনবি)  প্রতিবেদন অনুযায়ী বলা যায়, জনশক্তি রপ্তানী , গার্মেন্টস এর পর বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহৎ আয়ের খাত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশন। গত ৩ বছরে ৯১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার শান্তিরক্ষা  কার্যক্রম থেকে আয় হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আয় করছে। শান্তিরক্ষী, অস্ত্রশস্ত্র, ও সরঞ্জাম ভাড়া দেয়া থেকে আয় হয়েছে।    
প্রশান্তির প্রতিক নীল। জাতিসংঘের নীল হেলমেট মাথায় নিয়ে গত ২৫ বছর ধরে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সঙ্গে আছেন নৌ , বিমান  ও পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত সদস্যগণও; আছেন উল্লেখযোগ্য নারী সদস্যগণ। প্রায় ১০ হাজার সদস্যের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬ হাজার, নৌবাহিনীর ৫০০, বিমান বাহিনীর ৫৪৯ এবং পুলিশ বাহিনীর ২ হাজার ৫০ জন কর্মরত আছেন।  তাদের আত্মত্যাগের ফসল অনুযায়ী জাতিসংঘ পদক  “দ্যাগ হেমারশোল্ড ,পেয়েছেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ চার বাংলাদেশী সদস্য। তারা হচ্ছেন উইং কমান্ডার মোঃ আঃ হারিছ, এসআই মোঃ শাহ আলম, কনস্টেবল মোঃ আঃ হাকিম এবং কনস্টেবল মোঃ আজগর আলী। এ চারজনই গত বছর জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করার সময় শহীদ হয়েঝেন। বর্তমানে ১২ টি মিশনে বাংলাদেশী সৈনিকগণ  কর্মরত রয়েছেন। তাঁরা আইভরিকোস্ট, লইবেরিয়া, দকিবষণ সুদান, কঙ্গো, প্রজাতন্ত্র, সুদান, পশ্চিম সাহারা, পূর্ব তিমুর, লেবানন, ও হাইতিতে শান্তি রক্ষার কাজে নিয়েজিত রয়েছেন।   বিশ্ব শান্তি আন্দোলনে বাংলাদেশ শুধু অংশগ্রহণই নয় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এ পর্যন্ত শতাধিক শান্তিসেনা প্রাণের বিনিময়ে শান্তি রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তাদের অপরিসীম আত্মত্যাগের কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে শান্তির সুবাতাস বইয়ে চলছে। শান্তিময় সুন্দর বিশ্ব আমরা সবাই চাই। এদেশের নাগরিক হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের দাবী “ যুদ্ধ চাই না, ধ্বংস চাই না, আমরা পৃথিবীতে শান্তির পতাকা উড়াতে চাই। ”র্আকাইভ থকেে ৩১/০৮/২০১৭


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.