হিন্দু স¤প্রদায়ের পবিত্র দুর্গাপূজা ও মুসলমানদের কোরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের আনাচে-কানাচে জাল টাকা পাচরকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কুরবানীর সময় লক্ষ্য লক্ষ টাকার লেনদেন হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাল নোট ছড়িয়ে দেয়ার সম্বাভনাকে আমলে নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারাী বাহিনী তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । সদ্য বিদায়ী অর্থ বছরে দেশে মুল্যস্ফিতির হার আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে।বছর শেষে এ মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের অর্থ বছরে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জাল টাকা বিস্তারের ফলে মুদ্রস্ফীতির হার বাড়ছে বলে মনে করা হয়। কারণ জাল টাকার কারণে আসল টাকার মান কমে যায়। জাল নোট শুধু অর্থনীতিরই ক্ষতি করছে না , প্রতিদিন শত শত মানুষ এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাল নোটের টার্গেট হিসেবে বিবেচিত হয় গ্রাম- গঞ্জের সহজ সরল মানুষ। নোট জালকারী কিংবা তাদের এজেন্টরা তাদের কাছে এসব নোট চালানোর চেষ্টা করে। গ্রামের সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে ২০ ও ৫০ টাকার নোট জাল করছে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনরাইন দৈনিক আমার দেশের রিপোর্টে জানা যায়, দেশে জাল টাকার সাথে জড়িত লোকের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের তৎপরতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় অতীতে ১ লাখ জাল টাকার বান্ডিল ১০/১২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৫/৬ হাজার টাকা। বর্তমানে দেশে ৮/১০টি চক্র জড়িত রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্র অনুমান করছে। আপনি যখন ব্যংক থেকে অথবা অন্য কারো কাছ থেকে ১০০০ টাকার নোট নেবেন তখন ১৩টি বৈশিস্ট্য লক্ষ্য করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সুত্র জানায়, ১০০০ টাকার নোটে থাকবে রঙ্গ পরিবর্তনশীল হলোগ্রাফিক সুতা, অসমতল ছাপ, রঙ পরিবর্তনশীল কালি, উভয়দিক থেকে দেখা অন্ধদের জন্য বিন্দু, জলছাপ, এপিঠ-ওপিঠ ছাপা, অতি ছোট আকারের লেখা, লুকানো ছাপা, সীমানা বর্জিত, ছাপা, পশ্চাৎপট মুদ্রণ, নম্বর, ইরিডিসেন্ট ও স্টাইল, বিশেষ ধরণের কাগজ। এ ১৪ টির মধ্যে প্রথম ১১টি ৫০০ টাকার নোটেও বিদ্যমান রয়েছে। কুমিল্লার ব্যবসায়ীরা জানান, জাল নোট গুলোর কাগজ হয় সাধারণ, ফলে নোটগুলো সাধারণত নরম প্রকৃতির হয়ে থাকে বলে জানা যায়। আর বিশেষ করে রঙ পরিবর্তনশীল হলোগ্রাফিক সুতা ও কালি জলছাপ এবং অসমতল ছাপ জাল টাকায় থাকে না। গ্রাহকগন অভিযোগ করেন কোন কোন এটিএম বুথ থেকেও জাল টাকা বের হয়ে আসে। এ ধরণের কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে আপনি সাথে সাথে এটিএম বুথের কাউন্টারের সেকিউরিটি গার্ডকে জানাবেন। তার কাছে অভিযোগ দেবেন এবং সম্বব হলে রিসিভিং আনবেন। পরে থানায় ও ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করবেন। গোপন সঙবাদের ভিত্তিতে পুলিশ রাজধানীর উত্তরার ১২ নং সেক্টরের ১৫ ও ১৬ নং রোডের ২৯ ও ৩০ নং হেল্ডিং এর বাড়িতে অভিযান চালায়। এখান থেকে ২০ জনকে জাল টাকার অভিযোগে গ্রেফ্তার করা হয়। থানা পুলিশ সুত্র জানায় কিছু বিদেশী লোক বিভিন্ন দেশের জালমুদ্রা তৈরি ও মাদকের ব্যবসা করছে। এমন সংবাদ পেয়ে ঔ বাড়িতে অবিযান চালিয়ে ডলার, ইউরো, ও বাংলাদেশি জাল টাকাসহ ৩ শ বোতল বিয়ারসহ তাদেরকে আটক করে। বিদেশীদের মধ্যে রয়েছে ঘানা, নাইজেরিয়া, আফ্রিকা ও ক্যামেরুনের নাগরিক। এছাড়া বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে একই অভিযোগে ধরা পড়েছে ভারত, পাকিস্তান, সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। জার টাকার অভিযোগে আটক চক্রটির মধ্যে পুলিশের হাতে ধরা খাওয়া সদস্যরা জানন, - পেশায় দিন মজুর সেজে ভাঙ্গতির কথা বলে , আবার কখনো বা নামী-দামী হোটেলে খাবার খেয়ে বিল দিতে গিয়ে ,এধরণের টাকা ছড়িয়ে দেয়া হয়। তারা ময়লা ও ভাঁজ দেয়া টাকা ব্যবহার করে। অনেক সময় সিএনজি কিংবা বাসের ভাড়া দিতে গিয়ে তারা এ ধরণের টাকা ব্যবহার করেন। এছাড়া এচক্রের সদস্যগণ একসাথে কয়েকজন এক দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য যাচাই করার মধ্য দিয়ে জাল টাকা গছিয়ে দেন দোকানদারকে। কেউ কেউ বলেন সুন্দরী তরুণীদের কথা, বিলাসবহুল শপিং মলগুলোতে সুন্দরী তরূণীরা বিক্রেতাকে নানা ধরণের বাক্য ব্যবহার করে সাজ পোশাক ক্রয়ের বিপরীতে গছিয়ে দিচ্ছে জাল টাকা। বিশেষ করে কসমেটিক্সের দোকানে এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কোন সময় বেকায়দায় পড়ে গেলে মিস্টি হাসিতে সরি বলেই তারা পার পেয়ে যান।
আমাদের অজান্তে আমাদের হাতে জাল টাকা চলে আসতে পারে। আপনি যদি কোনভাবে বুঝতে পারেন , এটি জাল টাকা তাহলে সেটি আর চালাবার চেষ্টা করবেন না। এতে াাপনি আইনগত সমস্যায় পড়তে পারেন। তাছাড়া আপনার সাথে অন্যদের বন্ধুত্ব নষ্ট হতে পারে। আপনি না জেনেও যদি যদি আপনার ভাই কিংবা বন্ধুকে এ টাকা দেন তাহলে তারা আপনার সম্পর্কে অন্য কিছু ভাবতে পারে। হয়তো ভাববে আপনি জাল টাকা পাচাকরীদের সাথে জড়িত রয়েছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানা যায় কিছু কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা জাল টাকার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। আবার অনেক ধনী ব্যবসায়ীদের জড়িত থাকার বিষয়টিও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। আন্তর্জআতিক মুদ্রা পাচাকারী চক্রও বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে বলে জানা যায়। জাল টাকা রোধে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। ২৪ আগস্ট ২০০৪ টাঙ্গাইল থেকে ছাপানোরত অবস্থায় নগদ ৩৭২৫০০ জাল টাকা, ১টি ল্যাপটপ, বেশ কয়েকটি কালার প্রিন্টার ,১টি ল্যামেনেটিং মেশিন, অসংখ্য কার্টিজ, টাকা চাপানোর ফ্রেম, উদ্ধার করে। এছাড়া পুলিশ বিভিন্ন সময় টাকা তৈরির কাগজ, নিরাপত্তা সুতা, রং ও ক্যামিক্যাল উদ্ধার করে। আইনের ফাঁক-ফোকরের কারণে জাল টাকার সঙ্গে সংশিল্টরে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেয়ার ঘটনা ঘটেনা বল্লেই চলে। বিচার ব্যবস্থার দীঘৃসূত্রীতার কারণে জাল নোট সম্পর্কিত ৫ হাজারের বেশি মামলা উচ্চ আদালতসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে ঝুলে আছে। জাল টাকার সাথে জড়িতরা সহজেই জামিন পেয়ে যায় বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন। তাই আইনকে আরো কঠিন করা যায় কিনা ভেবে দেখতে হবে। জানুয়ারি ১৯৯৮ থেকে জুন ২০১২ পর্যন্ত দেশব্যাপী জাল নোট সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ জড়িতদেও বিরুদ্ধে বহু মামলা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে একটি বেশি মামলা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের বিমেষ ক্ষমতা আইনে জাল টাকা ও জাল স্ট্যাম্পের সঙ্গে জড়িতদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থ দন্ডের বিধান ছিল। ১৯৮৭ সালের ১৯ জানুয়ারী আইনটি সংশোধন কওে জাল নোটের সঙ্গে জড়িতদেও মৃত্যুদণ্ড বা ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়। জাল টাকা রোধে দেশে কঠোর আইনের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মাত্র ১২ পয়সা বাঁচানোর জন্য নানা মানের টাকার সাইজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা একই করা হয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন সময় জাল টাকা বানোনো ও পাচার সংক্রান্ত ব্যাপারে আটককতৃদের জবানবন্দীতে জানা যায়, ১০ টাকার নোট ৫০ টাকার নোট, সমান মাপের হওয়ায় ১০ টাকার নোটে ক্যামিক্যাল দিয়ে সাদা করে ৫০ টাকার ছাপ মারা হচ্ছে। ঠিক একই ঘটনা ঘটছে ১০০ ও ৫০০ টাকার নোটের ক্ষেত্রে। বর্তমানে ৫ হাজারেরও বেশি মামলা উচ্চ আদালতসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারধীন রয়েছে। এ টাকার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া জনসাধারণও ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই এব্যপারে জনসাধারণকে সতর্ক করতে হবে। এছাড়া প্রচলিত আইনটিতে কোন সমস্যা থাকলে তা দূর করে যুগোপযুগী আইন প্রণয়ন করতে হবে।লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক ও সাংবাদিক, সহকারী সম্পাদক,দৃষ্টান্ত ডট কম কুমিল্লা।
Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.