মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া প্রসঙ্গে
**বাংলাদেশে ¯œাতক পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষা লাভের জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারিভাবে মেডিকেল পড়ার ব্যবস্থা ছিল । এগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে। ঈরীক্ষাঃ আগামী ৪ অক্টোবর দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারও গত বছরের মতো ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ই মেডিকেলে ভর্তি সম্পন্ন হবে। বর্তমান নিয়মে এসএসসি, ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ ৮ থাকলেও আবেদন করতে পারবে। ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার পর একজন ছাত্র বা ছাত্রী কলেজে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা লাভ করবে। ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার পর নির্বাচিতদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। অকৃতকার্যরা বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। সংশ্লিস্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করবে। তবে কোন্ কলেজে চান্স পাওয়া যাবে তা বলা মুশকিল। তাই অভিভাবকদেরকে ৮/১০টি বেসরকারি মেডিকেলের সাথে যেযাগাযোগ করতে হয়।![]() |
| মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া প্রসঙ্গে |
নতুন কলেজ অনুমোদনঃ প্রথম মেডিকেল কলেজঃবাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় ১৯৮৪ সালে। নিয়মনীতি মেনে না চলেই দেশে নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। সরকার গত ৩ বছরে ২৬ টি মেডিকেল কলেজের অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে সরকারি ৫টি। ২০১২ সালে নতুন করে অনুমতিপ্রাপ্ত মেডিকেল কলেজগুলো ঢাকার বাইরে অবস্থিত। এগুলো হচ্ছে যশোর এর আদ-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ, খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহীর বরেন্দ্র মেডিকেল কলেজ, এবং গাজীপুরের সিটি মেডিকেল কলেজ। এছাড়া কুমিল্লার ময়নামতি মেডিকেল কলেজের একাডেমিক অনুমতি দেয়া হয়। একই সময়ে কয়েকটি মেডিকেল কলেজের আসন বাড়ানো হয়। মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ তে বলা হয়েছে, দুই একর যায়গায় নিজস্ব কার্যালয় , শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আলাদা ভবন এবং ৫০ টি আসনের বিপরীতে আড়াইশ শয্যা থাকতে হবে। আর প্রতি ১০ ছাত্রের জন্য থাকবে এক একজন শিক্ষক। সরকার বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা আইন ২০১৩ এর খসড়া প্রনয়ন করেছে।
বেহাল চিত্রঃ স্বাস্থ্য শিক্ষার বেহাল চিত্রের কারণ জানতে চাইলে অধ্যাপক ড: মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, একসময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খোলার একটি হুযোগ পড়েছিল। সেটা এখন পুরোপুরি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। ২০০৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় মেডিকেল বেসরকারি কলেজগুলো আকস্মিক পরিদর্শন করে। গুরুতর অনিয়ম ধরা ধরা পড়ারয় ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে ১৫টি বেসরকারি মেডিকেল কলেেেজ শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ উপাচার্য অধ্যাপক রশিদ - ই-মাহবুব বলেন -দ্রæত বিকাশমান বেসরকারি খাত নজরদারি করার মতো সামর্থ ও জনবল সরকারের নেই। ফলে বিশৃংখলা চলছে এবং ভবিষ্যতে ও চলবে এবং এর খেসারত দিতে হবে জাতিকে।
গমস্যাসমুহ ঃ অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পর্যাপ্ত যায়গা, নিজস্ব হাসপাতাল, একাডেমিক ভবনে লেকচার থিয়েটার, টিউটারিয়াল কক্ষ, অডিটরিয়াম, পরীক্ষার হল, লাইব্রেরী, কমনরুম ও খেলার জন্য পর্যাপ্ত যায়গা নেই। এছাড়া ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেলসহ ইন্টার্নিং চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেলের ব্যবস্থা থাকার শর্ত থাকলেও তা অনেকেই মানছে না। এছাড়া যেসকল বিষয় থাকতে হবে ঃ অ্যানাটমি, ফিজিওলজি প্রাণরসায়ন, ফার্মাকোলজি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেনসিক, মেডিসিন, সার্জারি, এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসুতিবিদ্যা বিভাগ থাকতেই হবে।
বেসরকারিতেও কোটা সিস্টেমঃ এসব কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। অধিকাংশ কলেজে কম বেশি ১০০ টি আসন রয়েছে। এই ১০০ টি আসনের মধ্যে ২৫টি বিদেশি ছাত্র/ছাত্রী , ৫টি অসচ্ছল মেধাবী, ২টি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, এবং ৫টি আসন সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের পরিচালনা পরিষদের পছন্দ অনুসারে পূরণের জন্য নির্ধারিত। ফলে মাত্র ৬৩টি আসন মেধাবীদের জন্য রয়েছে।
কসংখ্যা কয়টিঃ ঢাকা বিভাগে সরকারি ৬টি এবং বেসরকারি ৩৪ টি, এছাড়া শুধু মাত্র ধানমন্ডিতেই রয়েছে ৭টি মেডিকেল কলেজ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম। এ বিভাগে সরকারি ৪টি এবং বেসরকারি ৭টি , রাজশাহীতে সরকারি ৪টি, খুলনায় মোট ৬টি, এবং ৫টি করে মেডিকেল কলেজ আছে সিলেট ও রংপুর বিভাগে । পর্যবেক্ষকগণ মনে করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ইচ্ছে থাকা সত্বেও অনেক সময় নিরপেক্ষ তদন্ত করে নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমতি দেয়া সম্ভব হয় না। অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পেছনে আর্থিক বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি আছেন। সে কারণে সুদক্ষ শিক্ষক মন্ডলী, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ও উন্নত হাসপাতাল ছাড়াই মেডিকেল কলেজ খোলার অনুমতি পাচ্ছে। রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তি ছাড়াও ব্যবসায়ী , চিকিৎসক ও এনজিও কর্মকর্তারা এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক।
সূত্র জানায়, দেশে মোট সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে ২২টি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৫৩টি। সরকারি ও বেসরাকারি মেডিকেল কলেজসহ ডেন্টাল কলেজগুলোতে মোট আসন সংখ্যা ৮ হাজার ৪৯৩টি। এর মধ্যে ২২টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ২ হাজার ৮১১টি। আর ৫৩টি বেসরকারি মেডিকেলে ৪ হাজার ২৪৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান। এছাড়া ৯টি ‘পাবলিক’ ডেন্টাল কলেজ ও মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে ৫৬৭টি আসন রয়েছে ।
সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি যাতে বাস্তবায়ন না করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণারয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকতৃাদেও প্রচুর অর্থের বনিময়ে ম্যানেজ করে ফেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)’র নেতারা। এ প্রসঙ্গে বিপিএমসিএ’র সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারি ইস্টার্ণ মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান সেলিম মাহমুদ বলেন পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা খরচ অনেক সকম। তিনি বলেন, ভারতে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর যেখানে লাগে এক কোটি টাকা, নেপালে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা, পাকিস্থানে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা সেখানে আমাদের দেশে ৫ বছরে লাগে মাত্র ২০ লাখ টাকা। তিনি আরো বলেন, সরকার যদি সরকারি মেডিকেলের শিক্ষকদের মতো বেসরকারি শিক্ষকদেরও বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিতো তাহলে বেসরকারি কলেজগুলো ইচ্ছামতো ভর্তি ফি আদায় করতো না।
গত বছর ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের ওপরে যাঁরা পেয়েছিলেন, কেবল তাঁরাই সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হতে পেরেছেন ষনিয়মানুযায়ী, ৬০ নম্বরের নিচ থেকে নিম্নক্রম অনুযায়ী বাকিদের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার কথা ষবেসরকারি মেডিকেলগুলোর ভর্তির জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম নেই ষসরকারিভাবে সারা দেশে একযোগে নেওয়া পরীক্ষার ফলের একমাত্র তালিকা ধরেই তাদের ছাত্রছাত্রী ভর্তি করার কথা ষকিন্তু অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, এটা মানা হয়নি ষ
এর মূল কারণ, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির ব্যাপারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই ষসরকারি নিয়মনীতি বা নির্দেশ অমান্য করলে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় ষঅভিযোগ আছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর সঙ্গে নামকরা চিকিৎসক, চিকিৎসক সংগঠনের নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ষ
দেশে মোট ৭৬টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৫৪টিই বেসরকারি। চলতি শিক্ষাবর্ষে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া সাত হাজার ৬১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে চার হাজার ৮০০ জনই ভর্তি হয়েছেন এসব কলেজে। সরকারি কলেজে ভর্তির প্রায় দ্বিগুণ এ সংখ্যা। পাস করার পর এরাই দেশের আনাচে-কানাচে চিকিত্সাসেবার নামে হাসপাতাল, ক্লিনিক খুলে বসবেন। অসুস্থ হয়ে চিকিত্সার জন্য এদের কাছেই আমরা ছুটে যাব। কিন্তু পত্রিকায় এদের ভর্তি নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তাকে এককথায় ভয়াবহ বলা যায়। চলতি শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের কম পেয়েও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ৫৪টি কলেজের মধ্যে ১৬টির তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন উদ্বেগজনক অবস্থার কথা জানা গেছে। ভর্তির লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র সাড়ে ১০ পেয়েও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে।
