প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুবক দেশের সম্পদ

প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুবক দেশের সম্পদ

মমিনুল ইসলাম মোল্লা
শিশুরা উদীয়মান এর প্রবীনরা অস্তগামী সূর্যের মত। ম্যধবর্তী স্থানে অনস্থানকারী যুবকরাই সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে থাকে।
তাই যুবকরাই শক্তি, যুবকরাই মুক্তি, কবি হাসান হাফিজ ৬৯ সালে লিখে ছিলেন- এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। হ্যাঁ যুবকদের কল্যানকামী শক্তিকে আরো বেগবান করার জন্য ১২ আগস্ট সারা বিশ্বে পালিত হয় আন্তর্জাতিক যুব দিবস। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারন পরিষদ ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯ তারিখের সভায় ১২ আগস্টকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ঘোষনা করে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মাদক, নিরোধ, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রনে যুবকরা বিশেষ ভূমকিা পালন করতে পারে।শৈশবের মাধ্যমে মানুষের জীবনকাল শুরু হয়। ধীরে ধীরে সে কৈশর, যৌবন পেরিয়ে বৃদ্ধ হয়ে এক সময় পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। এ চারটি স্তরের মধ্যে যৌবনকালই শ্রেষ্ঠ সময়। শুধুমাত্র পারিবারিক জীবনেই নয় জাতীয় জীবনেও যুবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের যুব বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের নাগরিক ১৮ বৎসর বয়সে নাগরিকত্ব লাভ করে। বাংলাদেশে সাধারনত ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা যুব সমাজের অন্তর্ভূক্ত। তবে নেপালে ১০ বৎসর থেকেই যুব হিসেবে পরিচিতি লাভ করা আর ভারতে যুবদের সর্বোচ্চ বয়স সীমা ৩০ বৎসর।
যুবকরা সকল প্রেরনার উৎস, হতাশার মধ্যে আশার প্রদীপ। বিভিন্ন কবি ও লেখকগন তাদের লেখনীতে যৌবনকে বিভিন্নভাবে রূপায়িত করেছেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার “যৌবনের গান” প্রবন্ধে লিখেছেন তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহার, যাহার শক্তি অপরিমান, গতিবেগ বঞ্চার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ, আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তন্ড প্রায় বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট উদার্য অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে, তারন্য দেখিয়াছি আরব বেদুঈনদের মাঝে, তারন্য দেখিয়াছি মহাসমরের সৈনিকের মুখে, কালাপাহাড়ের অসিতে কামাল, করিম- মুসোলিনী সানইয়াৎ- লেনিনের বাহুতে। বাংলাদেশ অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশ। তাদের অর্ধেকই মহিলা ও শিশু। মহিলা (অশিক্ষিত), শিশু ও বৃদ্ধরি কর্মক্ষম নয়। যুবকরাই পরিবার ও দেশের দুর্যোগকালীন সময়ে হাল ধরে। যুবকরা কোন ভাল কাজে উৎসাহ দিলে তারা আরো অধিক ভাল কাজ করতে চেষ্টা করে। এভাবে দেশের সকল যুবক তাদের শক্তি, মেধা, অধ্যবসায় কল্যানকর কাজে লাগালে দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। অন্যদিকে যুবকরা সঠিক শিক্ষা না পেলে বিপথগামী হয়। তারা অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হয়। একথা কারো অজানা নাই যে বাংলাদেশের অধিকাংশ যুবক অবক্ষয়ের শিকার। যুবকদের বিপথগামীতার জন্য দারিদ্র, বেকারত্ব, হতাশা ইত্যাদি বিশেষভাবে দায়ী। এসব কারনে যুবকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে। যুব অসন্তোষ বলতে সাধারনভাবে যুবকদের দ্বারা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি আইন শৃংখলার পরিপন্থী আচরণের বহি:প্রকাশকে বুঝায়। যুবকদের এ অবস্থার জন্য আমাদের ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সিনেমা, টেলিভিশন এবং অন্যান্য গণমাধ্যমে নীল ছবি প্রদর্শন বিশেষভাবে দায়ী। সিনেমা, কাহিনী, নাচগান, পোষাক-আশাক ইত্যাদি সন্নিবেশিত থাকে যাতে যুবকরা এগুলোতে অনুপ্রাণিত হয়। 
লেখক: মমিনুল ইসলাম মোল্লা,প্রভাষক, ক্যাম্পেনার সিডিএলজি এবং সহকারী সম্পাদক , (দৃষ্টান্ত ডট কম), কুমিল্লা,


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.