রোববার ৬ এপ্রিল ২০০৮, ২৩ চৈত্র ১৪১৪ ঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা। দৈনিক রূপসী বাংলা-৩
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হলেও বর্তমান আমাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য বিপুল সংখ্যক জনগণের খাদ্য চাহিদা পূরুন করতে অক্ষম। খাদ্য সংকট মোকাবেলায় হাইব্রিড ধান ও অন্যান্য ফসলের দিকে কৃষকগণ ঝুঁকছে। তবে বর্তমানে খাদ্য সমস্যা সমাধানে ভুট্রাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করা যায়। তাই শ্রোগান উঠেছে ভুট্রা চাষে দুঃখ নাশে।
বাংলােেশর মাটি ও আর হাওয়া ভুট্রা চাষের জন্য উপযোগী। কয়েক বছর ধরে প্রদর্শনী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিভাগ কৃষকদের এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছে। এখন তারা নিজেদের উদ্যেগেই অন্য ফসল চাষ না করে অর্থকরী খাদ্যশস্য হিসেবে চাষ করছে ভুট্রা।
খাদ্যশস্য হিসেবে ভুট্রার চাহিদা বেশী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেমন-মেক্সিকো, চিলি, মধ্য আমেরিকা এবং পূর্ব ও দক্ষিণ আমেরিকার লোকদের প্রধান খাদ্য ভুট্রা। আমাদের দেশে ভাতের পরই ভুট্রা স্থান করে নিচ্ছে।
বর্তমানে জনসাধারণ ভুট্রার আটা সরাসরি অথবা গমের আটার সাথে মিশিয়ে খাচ্ছে। এছাড়া ভুট্রার মোচা আগুনে পুড়িয়ে বা লবণ পানিতে সিদ্ধ করে কেউ কেউ খাচ্ছেন।
তবে গমের আটার সাথে মিশিয়ে খেলেই ভালো পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। দু’ভাগ ভুট্রার আটার সাথে এক ভাগ গমের আটা মিশিয়ে তাতে পরিমাণ লবণ দিয়ে গরম পানিতে মিশিয়ে কাই বা খামির তৈরি করে গমের রুটির মতো রুটি তৈরি করা যায়। তৈল বা ঘি দিয়ে দু’ভাগে ভুট্রার আটা এবং এক ভাগ গমের ময়দা একত্রে মিশিয়ে উন্নত মানের পরোটা তৈরি করা যায়।
এছাড়া ভুট্রার খই জনপ্রিয় খাবার। ভুট্রাগুলো ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে উত্তপ্ত কড়াইয়ে ভেজে সামান্য খাবার তেল মিশিয়ে এই খই তৈরি করা যায়। খৈই থেকে মোয়াও বানানো যায়। সুস্বাদু মোয়া তৈরি করতে হলে সে খৈ- এর সাথে সামান্য আখেড় গুড় ও পানি মিশিয়ে আলাদা পাত্রে জ¦াল দিয়ে ঠান্ডা করে মোয়া বানানো যায়। এছাড়া খইগুলো গুড়ো করে নাড়– এবং ঢেঁকিতে আধা ভাঙ্গা করে প্রয়োজন মত দুধ, চিনি অথবা গুড় মিশিয়ে ক্ষীর ও পায়েশ রান্না করে মেহমানদারী করা যায়।
বাংলাদেশে আবাদী জমির পরিমাণ কম। তাই একজন কৃষক একটি ফসল চাষ করলে অণ্যটি চাষ করতে পারেনা। এজন্য অনেকে ভুট্রা চাষ করতে উৎসাহী নয়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্রা চাষ লাভজনক।
ভুট্রায় ভাতের চেয়ে অধিকতর প্রোটিন ও ভিটামিন থাকে। রবি ও খারিফ উভয় মৌসুমে ভুট্রা চাষ করা যায়। পানি ভাসে না এরূপ জমিতে ফলণ বেশি হয়। এ সময় প্যাসিফিক-১১ বণালী অথবা মোহর জাতের ভুট্রার ফসল বেশি পাওয়া যায়। এ ধরনের ভুট্রার ফলন প্রতি একরে প্রায় ২ টন। এগুলো প্রায় ৪ মাসে উৎপাদন হয়। ১-৩০ অক্টোবরের মাঝে বীজ বপণ করলে মার্চ-এপ্রিল মাসে ফলন পাওয়া যায়।
এছাড়া খারাপ মৌসুমেও চাষ করা যায়। ১৫ ফেব্রæয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বীজ বপণ করলে জুন মাসে ফসল ঘরে উঠবে। এছাড়া খরিপ-২ জুলাই-আগষ্ট মাসে বপণ করলে কাটা যাবে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে। এ সময় শুভ্রা, সোয়াস-২ অথবা প্যাসি ফিক-১১ জাতের ভুট্রা চাষ করা যেতে পারে।
ভুট্রা চাষের জন্য মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য গোবর সার, রুটোম, ইউরিয়া, টিএসপি, এসওপি, জিপসাম, লিবারেল দস্তা, লিবারেল বোরণ দিতে হয়। ভুট্রার জমিতে বিভিন্ন ধরনের পোকা- মাকড় ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে কাটুই পোকা, মাজরা পোকার প্রকোপ দেখা যায়।
ভুট্রা ক্ষেতে সেচ্ দিলে মাটির নীচে লুকিয়ে থাকা বীড়া মাটির উপরে উঠে আসে এবং পাখি খায়। বিষটোপ হিসাবে মর্টাও ৪৮ ইঞ্চি গম বা ধানের কুড়ার সঙ্গে মিশিয়ে সন্ধ্যাবেলা আক্রান্ত ক্ষেতে ঃ (২য় পাতায় দেখুন)।
তৃতীয় প্রধান খাদ্যশস্য ভুট্রা
৩য় পাতার পর ঃ
চারা গাছের গোড়ায় ছিটিয়ে প্রয়োগ করলে কাটুই পোকা মারা যায়। আর মাজরা পোকা থেকে বাঁচার জন্য ফিলিটাপ-৫০ এসপি (কারটাপ) প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১৫ গ্রাম করে মিশিয়ে স্প্রে করলে মাজরা পোকা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
আমাদের দেশে খাদ্য হিসেবে ভুট্রার চাহিদা কম। তবে পোট্রিতে চাহিদা রয়েছে। আমাদের দেশে পোল্ট্রি শিল্পের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। অধিক পরিমাণে ভুট্রা চাষ করা গেলে আমাদের অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে বিদেশ থেকে মুরগীর খাদ্য আনতে হবে না।
এছাড়া জ¦ালানী হিসেবে ভুট্রার কোনো তুলনা হয় না। একবার জমি চাষ করা গেলে ১০০ মণ জ¦ালনী (এক একরে) পাওয়া যায়। ফলে কৃষকদের জ¦ালানী কিনতে হয় না।
বর্তমানে চলমান খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় ভুট্রা চাষ একটি আ-লোকিত পদক্ষেপ। ধানের পরিবর্তে ভুট্রা চাষ করে কৃষক তার অভাব দুর করতে পারে। অন্য দিকে জাতীয় খাদ্য সমস্যার সমাধানেও এটি সহায়ক।
মমিনুল ইসলাম মোল্লা
সাংবাদিক, কুমিল্লা
একটি প্রশিক্ষা ফিচার।
ই-মেইল : ঢ়পঢ়ফ@ঢ়ৎড়ংযরশধ.নফড়হষরহব.পড়স